২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার নাগরিকদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে’। তবে, তার বক্তব্যে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত ছিল। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে বিশাল পরিমাণ প্রাণহানি, মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। ইউক্রেনে আক্রমণের প্রায় তিন বছর পরও যুদ্ধের কারণ বা এর লক্ষ্য সম্পর্কে কিছু বলেননি পুতিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ সেনা নিহত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং বিশ্বপরিসরে রাশিয়ার অবস্থান সংকটাপন্ন।
পুতিনের বক্তব্যে মুদ্রাস্ফীতি বা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কোনও উল্লেখ ছিল না। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতা ক্রমশ স্থবিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
যুদ্ধকালীন উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশটি মন্দা এড়াতে পারলেও মুদ্রাস্ফীতি এবং শ্রমবাজারে সংকট পরিস্থিতি জটিল করেছে। ২০২৫ সালে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অগ্রগতি করলেও তা উল্লেখযোগ্য সাফল্য আনতে পারেনি। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নতুন সেনা নিয়োগের হারও কমছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার অবস্থা আরও সংকটময় হয়েছে। সিরিয়ায় বশির আল-আসাদের পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়া রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করেছে।
পুতিনের বক্তব্যে আশার বাণী শোনা গেলেও বাস্তব পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য বেশ অনিশ্চিত। যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় রাশিয়ার নেতৃত্ব কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
পুতিন তার ভাষণের শেষে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে থাকলে সবকিছু সম্ভব। শুভ নববর্ষ’। তবে তার এই বক্তব্য রাশিয়ার নাগরিকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কতটা কার্যকর হবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।








