রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক শহরে ইউক্রেনের নতুন আক্রমণের ঘটনায় স্থানীয়রা বিস্ফোরণের আওয়াজে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনীয় হামলার শিকার হয়ে আসছে। গত আগস্টে একটি সাহসী অভিযান চালিয়ে ইউক্রেন বেশ কয়েকটি এলাকাও দখল করেছিল, যা পরে রাশিয়া পুনরুদ্ধার করে।
রবিবার ভোরে ইউক্রেনীয় বাহিনী নতুন করে কুরস্ক অঞ্চলে আক্রমণ শুরু করে। তারা সুদঝা থেকে কুরস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে বারদিন ও বলশয় সলদাতস্কয়ে গ্রামগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
স্থানীয় আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী ওলেগ পোগোজিখ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, মিসাইল সতর্কতার সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিদিনই শোনা যায়। তবে আজ শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আমার স্টুডিও পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে। শত্রুর উদ্দেশ্য কী তা বোঝা কঠিন।
স্থানীয় কর্মকর্তা ইয়ান ফুর্তসেভ জানান, মধ্যরাত থেকেই মিসাইল সতর্কতার সাইরেন শোনা যায় এবং এদিন প্রায় ১৬টি মিসাইল সতর্কতা ও একটি ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। কুরস্ক শহরের মানুষ শঙ্কার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে, বিশেষ করে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ সরকারি ছুটি হওয়ায় তথ্যের স্বল্পতা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউনুস-বেক ইয়েভকুরভ কুরস্কে গিয়ে প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তার বৈঠক হলেও সফরের কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই হামলায় দুটি ট্যাংক এবং ১২টি সাঁজোয়া যান অংশ নেয়। রুশ সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ভারী বিমান ও আর্টিলারি হামলার মাধ্যমে তারা ইউক্রেনের সাঁজোয়া কনভয়ের বড় অংশ ধ্বংস করেছে।
বিজেপি সাংসদ ও কুরস্ক অঞ্চলের বাসিন্দারা এ হামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্লেষক ওলেগ ইগনাটোভ বলেছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলা এখনও ছোট পরিসরে রয়েছে। এটি একটি বৃহৎ আক্রমণের পূর্বাভাস হতে পারে।
গত বছর আগস্টে ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার সুদঝা শহর দখল করেছিল। ওই সময় তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ নিশ্চিত করেছিল। তবে, জানুয়ারির শুরুতে গ্যাস সরবরাহের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
রাশিয়া ধীরে ধীরে দখলকৃত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করছে। তবে উত্তর কোরিয়ার সেনারা রুশ বাহিনীকে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠলেও মস্কো তা অস্বীকার করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা









