যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প রাশিয়ার বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের ফাঁদে পড়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের উচিত ছিল আগেই রাশিয়াকে কিছু এলাকা ছেড়ে দেওয়া। তাহলে যুদ্ধ শুরু হতো না। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত ইউক্রেন সম্পর্কে আরও বাস্তব তথ্য জানা।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর। যেমন, তার জনপ্রিয়তা ৪ শতাংশ বলে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সেটিও রুশ অপপ্রচার।
কিয়েভ আন্তর্জাতিক সমাজতাত্ত্বিক ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় জনগণ জেলেনস্কির ওপর আস্থা রাখেন।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া ও ইউক্রেন নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন। ওয়াশিংটনের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা তিনি বন্ধ করেছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মাসেই পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তবে ক্রেমলিন বলছে, এটি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। রাশিয়ার সবেরিন ফান্ডের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েকটি মার্কিন কোম্পানি দ্বিতীয় প্রান্তিকেই রাশিয়ায় ফিরতে পারে।
সৌদি আরবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া আলোচনা ইতিবাচকভাবে দেখছেন পুতিন। রুশ সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পুতিন বৈঠক সম্পর্কে বলেছেন, ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তবে এই বৈঠকে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ট্রাম্পের যুক্তি, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেওয়া।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র এবং ৩১.৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজ সম্পদের বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশ বিক্রি করতে পারি না।
ট্রাম্পের ইউক্রেন নীতি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়িয়ে তুলছে। বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশের দূতরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৬তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ চূড়ান্ত করেছেন। যার মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ তেলবাহী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফ্রান্স ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। একই ধরনের আলোচনা ইতোমধ্যে ব্রিটেন, ইতালি, জার্মানি, স্পেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হয়েছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ দখল করেছে এবং প্রতিদিনই হামলা জোরদার করছে। বুধবার ওডেসা শহরে রুশ ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু। হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঠান্ডায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
ইউক্রেনও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। মঙ্গলবার একটি বড় পাইপলাইনে হামলার ফলে কাজাখস্তান ও আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ ৩০-৪০ শতাংশ কমে গেছে।









