রাশিয়ার পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর সংঘর্ষের পর এ সমর্থন জানানো হলো। রুশ কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়কে স্বাগত জানান।
জেলেনস্কি হঠাৎ করেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান এবং তার সফর সংক্ষিপ্ত করেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ট্রাম্প ‘সংযম’ দেখিয়েছেন। কারণ তিনি কথোপকথনের সময় জেলেনস্কিকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জাখারোভা বলেন, ‘ট্রাম্প ও ভ্যান্স কীভাবে এই বদমাশকে মারধর করা থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন, এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য সংযমের উদাহরণ।’
তিনি জেলেনস্কিকে ‘যে হাত তাকে খাওয়ায়, সেটিকেই কামড়ানোর’ অভিযোগ তোলেন।
জাখারোভা আরও বলেন, ‘জেলেনস্কি সবার কাছেই অপ্রীতিকর।’
সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য আসে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের কাছ থেকে। তিনি কোনও রাখঢাক না রেখেই জেলেনস্কিকে ‘অভদ্র শূকর’ বলে আখ্যা দেন এবং জানান যে, ওভাল অফিসে তাকে ‘যথাযথভাবে শাসন’ করা হয়েছে।
রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই উত্তপ্ত সংঘর্ষকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। দিমিত্রিয়েভ ১৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত রুশ-মার্কিন আলোচনায় মস্কোর প্রধান আলোচক ছিলেন। তিনি বলেন, এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা সংস্থার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিমাকভ জেলেনস্কির বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, কিয়েভ হয়ত এমন কিছু ঘটনা ঘটাতে পারে যা শান্তিপ্রিয় বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক মৃত্যুর কারণ হবে, যাতে তারা সহানুভূতি অর্জন করতে পারে এবং দোষ রাশিয়ার উপর চাপাতে পারে।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি নিয়ে মজাদার প্রতিবেদন লেখেন। আরটি এক্সে পোস্ট করে লিখেছে, জেলেনস্কি হাত দুই পায়ের মাঝে রেখে বসে থাকেন। যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকে ধুয়ে দেন।’
এ ঘটনার পর ইউরোপের অনেক নেতাই জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানান। তবে পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ট্রাম্পের পক্ষ নেন। এক্সে ওরবান লিখেন, শক্তিশালী নেতারা শান্তি আনেন, দুর্বলরা যুদ্ধ বাঁধান।
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প শান্তির পক্ষে সাহসের সাথে অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এটি অনেকের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। ’
সূত্র: এনডিটিভি, এএফপি








