ব্রিটেনে ক্ষমতায় এলে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসীদের ‘গণবিতাড়ন’ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ডানপন্থি রিফর্ম ইউকের নেতা ও সাবেক ব্রেক্সিট প্রচারক নাইজেল ফারাজ। শনিবার দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ থেকে ব্রিটেনকে প্রত্যাহার করে আফগানিস্তান, ইরিত্রিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করবেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ফারাজ বলেন, আমরা চাইলে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে পারি, আবার কঠোরও হতে পারি। ট্রাম্প এই বিষয়টি যথেষ্ট পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছেন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, অধিকারহীন দেশগুলোতে ফেরত পাঠালে অভিবাসীরা নিহত বা নির্যাতিত হতে পারেন কি না। জবাবে ফারাজ বলেন, আমি বিশ্বের স্বৈরাচারী সরকারগুলোর জন্য দায়ী নই। তবে আমি আমাদের রাস্তায় নারীদের নিরাপত্তার জন্য দায়ী।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ হোটেলগুলোর বাইরে ছোট ছোট বিক্ষোভ হচ্ছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কয়েকজন অভিবাসীকে গ্রেফতারের পর নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ে।
বৃহত্তর জনমত জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন এখন ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, অর্থনীতির চেয়েও অগ্রাধিকার পাচ্ছে। গত বছরের নির্বাচনে পাঁচটি আসন পাওয়া রিফর্ম ইউকে সাম্প্রতিক জরিপে শীর্ষে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালে ফ্রান্স হয়ে ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ৩৭ হাজার মানুষ ব্রিটেনে প্রবেশ করেছেন। এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ বেশি। আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ভিয়েতনাম ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা অভিবাসীরাই ছিলেন বেশি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছোট নৌকায় এসে আশ্রয়প্রার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ সফল হন। তবে মাত্র ৩ শতাংশকে এখন পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফারাজ বলেন, ছোট নৌকায় আগতদের আশ্রয় দাবি বা নির্বাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার বাতিল করবেন তিনি। এজন্য মানবাধিকার আইন সংস্কার ও শরণার্থী বিষয়ক চুক্তি থেকে ব্রিটেনকে বের করে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটি জাতীয় জরুরি অবস্থা। লক্ষ্য হলো গণবিতাড়ন।
দ্য টাইমস জানিয়েছে, ফারাজ ২৪ হাজার অভিবাসীর জন্য সামরিক ঘাঁটিতে অস্থায়ী শিবির তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্যয় ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড (৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার)। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন পাঁচটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এতে হাজার হাজার অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। যদি সেটিও ব্যর্থ হয়, তাহলে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ব্রিটিশ ভূখণ্ড অ্যাসেনশন দ্বীপে তাদের পাঠানো হতে পারে। ফারাজের মতে এটি প্রতীকী বার্তা দেবে।
মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, ফারাজের প্রস্তাব কার্যকর হলে আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। সমালোচকেরা বলছেন, এটি কেবল আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গই নয়, বরং বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ফারাজ অবশ্য বলছেন, বর্তমান নীতি বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে, যা জনগণের ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। তার ভাষায়, আমরা অভিবাসীদের স্রোতে ডুবে যাচ্ছি। এর সমাধান গণবিতাড়ন ছাড়া আর কিছু নয়।









