কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় কাতার দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কভিত্তিক বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার পাশাপাশি, রাশিয়ার এক ড্রোন হামলায় কাতার দূতাবাসের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
রুশ বাহিনী ২৪২টি ড্রোন, ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলায় চারজন নিহত হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি ধ্বংসাত্মক হামলায় একটি আবাসিক ভবনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়, যেখানে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেছেন, “বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আমরা আশা করছি।” তিনি বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সতর্ক করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো সীমান্তের কাছে এই হামলা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্প্রদায়ের জন্য এই হামলা একটা পরীক্ষা। ইউক্রেন দ্রুত জাতিসংঘ ও ন্যাটোতে বৈঠকের উদ্যোগ নেবে।
হামলায় ১৯টি বহুতল ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন, ট্রাম ডিপো, সুপারমার্কেট এবং গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসক, উদ্ধারকর্মী এবং পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। প্রসিকিউটররা ইউক্রেনের ফৌজদারি আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তারা বলেছে, এটি ছিল নভগরদে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাসভবনে কথিত হামলার প্রতিশোধ।








