নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিযানে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় এখন আর তিনি কেবল ‘শান্তি’র কথা ভাবতে বাধ্য নন, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো তিনি সেটাই করবেন। গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান ইউরোপের সঙ্গে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোয়ারকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, যেহেতু আপনার দেশ আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরেও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি, তাই আমি আর কেবল শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই। এখন আমি সেটাই ভাবব যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক এবং উপযুক্ত।
ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে ট্রাম্প তার প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। গত শনিবার তিনি হুমকি দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কিনতে না দেওয়া পর্যন্ত আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, ব্রিটেন ও নরওয়ের ওপর দফায় দফায় শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের দাবি, ডেনমার্ক রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না। তিনি লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পকে না দিয়ে ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজে মাচাদো তার মেডেলটি ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এই পুরস্কার হস্তান্তর বা ভাগ করার কোনও নিয়ম নেই। মূলত এরপরই ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক বার্তা সামনে এলো।
ট্রাম্পের এই ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা হুমকির মুখে নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতারা। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে একটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। বিকল্প হিসেবে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর মার্কিন আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ বা অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট (এসিআই) ব্যবহারের চিন্তা করছে ইউরোপ। এর মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগ বা ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত করা হতে পারে।
জার্মান অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবেইল এবং ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর বার্লিনে এক বৈঠকে বলেন, আমরা নিজেদের ব্ল্যাকমেইল হতে দেবো না। তারা একটি ঐক্যবদ্ধ ইউরোপীয় জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
ট্রাম্পের এই হুমকিতে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে গত বছরের মতো আবারও একটি অস্থির বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
সিডনিভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর বলেন, এই পরিস্থিতি ন্যাটোর মিত্রদের সম্পর্ক এবং গত বছরের বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়া কোনও সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারলে ট্রাম্প বিশ্ব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন কেবল ভূ-রাজনীতি নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।









