আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান একটি ডাচ প্রমোদতরিতে তিন যাত্রীর মৃত্যুর পর হান্তাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানায়, এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ালেও মানুষের মধ্যে এমন সংক্রমণ বিরল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা ডক্টর মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, প্রমোদতরিতে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ দম্পতি ছিলেন এবং তারা একই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
সংস্থাটির ধারণা, অসুস্থ হওয়া প্রথম ব্যক্তি জাহাজে ওঠার আগেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
জাহাজটির পরিচালক সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, ২৩টি দেশের ১৪৯ জন যাত্রী বর্তমানে জাহাজটিতে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করে আছে।
এখন পর্যন্ত সাতজন হান্তাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছেন। এর মধ্যে দুটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাকি পাঁচজন সন্দেহভাজন। মৃত তিনজনের মধ্যে একজন ডাচ দম্পতি ছিলেন। স্ত্রীর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলেও তার স্বামী এবং ২ মে মারা যাওয়া এক জার্মান নাগরিকের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া ৬৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তার শরীরেও ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।
ডক্টর ভ্যান কেরখোভ জানান, প্রমোদতরিটি অনেক দ্বীপে ভ্রমণ করেছে যেখানে ইঁদুর থাকতে পারে। সাধারণত ইঁদুরের লালা বা মলমূত্র থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। তবে জাহাজে কোনও ইঁদুর নেই বলে তাদের জানানো হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা পূর্ণ পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করছেন এবং জাহাজটি জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।
স্পেন জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপে ভেড়ার অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেপ ভার্দে থেকে পাওয়া সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাহাজটি ক্যানারিতে ভেড়ার জন্য এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পাননি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা চিকিৎসা ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
জাহাজের ভেতরে থাকা এক যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রমোদতরির পরিবেশ এখন পর্যন্ত ‘মোটামুটি ভালো’। তবে অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাভেল ভ্লগার জেক রোজমারিন। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি বলেন, সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো অনিশ্চয়তা। আমরা কেবল এখন নিরাপদ বোধ করতে চাই এবং স্বচ্ছতা ও বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা চাই।









