বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সামাজিক শালীনতা বজায় রাখতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সৈকত থাকাটা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব সামাজিক নিয়ম ও দেয়াল বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু ইতালির ত্রিয়েস্তের বানিও মারিনো লা লান্তের্না সৈকত, যা স্থানীয়দের কাছে এল পেদোচিন নামে পরিচিত। ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সৈকতটিই বর্তমানে পুরো ইউরোপের শেষ নারী-পুরুষ বিভক্ত সৈকত, যেখানে একটি ৯ ফুট উঁচু সাদা কংক্রিটের দেয়াল পুরুষ ও নারীদের আলাদা করে রেখেছে।
এই দেয়ালটি অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অগভীর পানি পর্যন্ত বিস্তৃত, যার বাইরে গিয়ে অবশ্য নারী-পুরুষেরা চাইলে ফ্রিতে মেলামেশা করতে পারেন। তবে নুড়িপাথরে ঘেরা মূল সৈকত এলাকায় বিপরীত লিঙ্গের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্থানীয় প্রশাসন নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা রেখেছে এবং জনপ্রতি ১.২০ ইউরো (১.৪ ডলার) প্রবেশমূল্য নিয়ে থাকে।
বেশির ভাগ স্থানীয় মানুষের কাছে এল পেদোচিন তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, এটি নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিতর্ক দানা বাঁধে। সম্প্রতি এক নারী পুরুষদের জন্য নির্ধারিত অংশে চলে যাওয়ায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে আসে। পুরুষেরা যখন তাকে নারীদের অংশে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন, তখন ওই নারী ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘আপনারা একদল লিঙ্গবাদী বোকা। এটি এক ধরনের বৈষম্য। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।’
জানা গেছে, ওই নারী মূলত তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে পোশাক বদলাতে তার স্বামীকে সাহায্য করতে সেখানে গিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি হাতাহাতির রূপ নেওয়ার আগেই ওই নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনা একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ইউরোপে এমন লিঙ্গভিত্তিক বিভক্ত সৈকত থাকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অনেকেই একে ‘মধ্যযুগীয়’ মানসিকতা বলে সমালোচনা করলেও স্থানীয়রা তাদের এই কংক্রিটের দেয়াল ও ঐতিহ্য রক্ষায় অনড়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক স্থানীয় নারী লিখেছেন, এটি মধ্যযুগীয় কিছু নয়! এটি ত্রিয়েস্তের ইতিহাসের অংশ। কোনও ত্রিয়েস্তবাসী এই দেয়াল সরাতে চায় না!
অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা এল পেদোচিনের পক্ষে সাফাই গেয়ে লিখেছেন, পেদোচিন আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এখন এটি বর্জনের সংস্কৃতির শিকার হচ্ছে।
সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল

বঙ্গোপসাগর থেকে কাশ্মীর: উত্তর ভারতে বর্ষার পূর্বাভাস
ইরানের আমন্ত্রণ পেয়েও কেন খামেনির জানাজায় যাচ্ছেন না মোদি






