যুক্তরাজ্য সরকারের বৈদেশিক সহযোগিতা বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মেয়াদের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ সহায়তা বঞ্চিত হওয়ার মুখে পড়েছেন।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) তাদের বৈদেশিক সহযোগিতা বাজেট মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন-এর পরিচালিত প্রকল্পটি নির্ধারিত ২০২৮ সালের পরিবর্তে ২০২৬ সালের জুন মাসেই গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত সময়সীমা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা তার চেয়ে অনেক কম পেয়েছে, যার ফলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ হাজার থেকে কমে ৩৭ হাজারে নেমে এসেছে।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স লিড তামান্না রহমান জানান, হঠাৎ এই অর্থ ছাঁটাইয়ের কারণে আড়াই বছরে ধরে স্থানীয়দের সঙ্গে গড়ে ওঠা আমাদের বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সঠিকভাবে প্রকল্প হস্তান্তরের সুযোগও কমে গেছে।
এই প্রকল্পটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান সুন্দরবনের নিকটবর্তী কালবোগীর মতো নদীভাঙন ও লবণাক্ততায় আক্রান্ত এলাকার মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও প্রাথমিক সতর্কবার্তা প্রদানে সহায়তা করে আসছিল। প্রকল্পের সহায়তায় সোলার রাইস-হাস্কিং মেশিন ও সৌরবিদ্যুৎ পেয়ে বহু প্রান্তিক পরিবার প্রতিদিনের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ার ও লেবার পার্টির এমপি সারাহ চ্যাম্পিয়ন এ বিষয়ে বলেন, যদি এ ধরনের প্রকল্প নোটিশ ছাড়াই দুই বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তায় যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এর ফলে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে।
একইভাবে ব্রিটিশ এনজিও নেটওয়ার্ক বন্ড-এর প্রধান নির্বাহী রোমিলি গ্রিনহিল এটিকে একটি জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ হারিয়ে যাওয়া হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাজ্য সরকারকে সাহায্য বাজেট পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
তবে সমালোচনা সত্ত্বেও এফসিডিও-এর এক মুখপাত্র জানান, সাহায্য হিসেবে সরাসরি অনুদান দেওয়ার নীতি থেকে ব্রিটেন সরে আসছে। এখন থেকে সরাসরি বিদেশি সরকারগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো ও ব্যবস্থা জোরদার করার দিকেই তারা বেশি নজর দেবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডি-ডে’র হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, জবাবে আরও বড় হুমকি তেহরানের
যুদ্ধের মধ্যেই বিশাল গ্যাস মজুতের সন্ধান পেলো ইরান
গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০







