ইউক্রেনে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক বিরোধে এটি সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা দেন, আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে সিউলে স্থানান্তর করেছে তার সরকার। এর মধ্য দিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। সিউলের দাবি, স্থানান্তর গোপন রাখার চুক্তি ভেঙেছে ইউক্রেন। তবে জেলেনস্কির কার্যালয় বলছে, এ ধরনের কোনও গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে যাওয়া হাজারো উত্তর কোরীয় সেনার মধ্যে ছিলেন ওই দুজন। তারা আগে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে চান।
দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইয়ুন-জু সেপ্টেম্বরে বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনীয় প্রতিপক্ষ আন্দ্রি ভিয়েশকিনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানান, ইউক্রেনীয় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তিনি ক্ষমা চাওয়ার বার্তা পেয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এটিও বলেন, তা সিউলের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
বুধবার ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম লিগার বরাতে জানা যায়, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেওরহি টিখি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ক্ষমা চাননি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছে, বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু সুষ্ঠুভাবে সমাধান হবে।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনের প্রতি সহানুভূতিশীল সিউল। তবে সক্রিয় যুদ্ধে জড়িত কোনও দেশকে প্রাণঘাতী অস্ত্র না দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরতে তারা রাজি হয়নি। ২০২৪ সালে রাশিয়াকে সহায়তায় উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের পর রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় অত্যাধুনিক বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়ায় কিয়েভ।
এ বছরের জুলাইয়ে সিউল ইউক্রেনের জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। লির কার্যালয় জানায়, এটি আগের সহায়তারই সম্প্রসারণ, যাতে হেলমেট, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো অপ্রাণঘাতী জিনিস ছিল।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনকে অস্ত্র দিলে তাদের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তারা উল্লেখ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও প্রতিবেশী যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতভেদ থাকতে পারে, তাদের সঙ্গে বরাবরই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার নীতি অনুসরণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে কাজ করেছে সিউল। পিয়ংইয়ংকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টায় মস্কো ও বেইজিংকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে।
তীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তান