বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়

আশীষ বিশ্বাস, কলকাতা
২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:১২আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:১৪
image

কানেক্টিভিটি নিশ্চিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক। দুই দেশ একে অপরের সমুদ্র বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে পেয়েছে দ্রুততর পণ্য রফতানির সুবিধা। ২০১৯ সালের প্রথম দিনে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে ইউরোপ গেছে তৈরি পোশাকের একটি চালান। আর এটিই বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত পরিবহনের প্রথম উদাহরণ। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একে একটি ‘অনন্য দৃষ্টান্ত’ আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়

১ জানুয়ারি দুই দেশেই কার্যক্রম থাকা ‘এক্সপো ফ্রেইট লিমিটেড’ নামের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি রফতানির জন্য তাদের ৪ দশমিক এক টন ওজনের পণ্য প্রথমে ট্রাকে করে বেনাপোল-পেট্রাপোলে পাঠায়। সেখান থেকে জিপিএসযুক্ত ট্রাকে করে পণ্য পাঠানো হয় কলকাতা বিমানবন্দরে। আর সেখান থেকে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের চালানটি রওনা হয় ইউরোপের উদ্দেশে। আন্তঃসীমান্ত এই পণ্য পরিবহনের সময় পথে ঘটেনি কোনও বিলম্ব। কলকাতাভিত্তিক ‘এশিয়ান কাউন্সিল অব লজিস্টিক্যালের’ (এসিএল) অতীন সেন মন্তব্য করেছেন, আন্তঃসীমান্ত পণ্য পরিবহনের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা দুই দেশকেই জিতিয়ে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান দুই দেশের সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ ও আকাশথের যেকোনওটি প্রয়োজনমত ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।
আন্তঃসীমান্ত পণ্য পরিবহনের সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ায় ব্যস্ততম সময়ে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের বন্দরের পণ্যজট বা রাস্তার যানজটের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা অনেক কমে এসেছে। অন্যদিকে এর মাধ্যমে কলকাতা বিমানবন্দর তার নতুন ও বর্ধিত অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছে। ভারতের রফতানিকারকরা শ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানকার বন্দর ব্যবহারে সমস্যার মুখে পড়লে ব্যবহার করতে পারবেন বাংলাদেশের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর।
রফতানি পণ্যের আন্তঃসীমান্ত পরিবহনে সামনে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে রেল ব্যবস্থা ব্যবহারেরও। বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্তে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ট্রেনে পরিবহন করা হতে পারে পণ্য। বর্তমানে বছরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দুই লাখ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করা হয়। এর বেশিরভাগই ভারতে থেকে করা বাংলাদেশের আমদানি পণ্য। বাংলাদেশ ভারত থেকে পাথর, জিপসাম, চিনি, খাদ্যশস্য, ভুট্টা ইত্যাদি আমদানি করে। আমদানিকারকরা ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক, গাড়িসহ বিভিন্ন ভোক্তা পণ্য একইভাবে আমদানির কথা ভাবছেন।
পণ্য পরিবহন বেড়ে গেলে সেগুলো রাখার জন্য ডিপোর দরকার হবে। ভারত ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে পশ্চিমাঞ্চলে ডিপো স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে। ডিপো স্থাপিত হলে আন্তঃসীমান্ত পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রফতানিতে আসবে আরও বেশি গতি, বাড়বে নিরাপত্তা। এসিএলের সংশ্লিষ্ট সূত্র মন্তব্য করেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ কম হলেও, সামনে এ অবস্থার পরিবর্তন হতে দেখা যেতে পারে। ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিহার, উড়িষ্যা, ঝাড়খণ্ডসহ দক্ষিণ পূর্বের রাজ্যগুলোতেও পণ্য রফতানির সুযোগ পাবেন। তাছাড়া থাকছে ভুটান ও নেপালের বাজার।
ইলিশ মাছ, চামড়াজাত পণ্য ও টাঙ্গাইলের শাড়ির পাশাপাশি কলকাতায় বাংলাদেশি বই, হস্তজাত শিল্প, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সিগারেট ও তৈরি পোশাকের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পর্যটন খাতের। দুই দেশ থেকেই মানুষ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া-আসা করেন।
এ বছরের শেষ নাগাদ ভারতের সিংহাবাদ ও বাংলাদেশের চিলাবাড়ির মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে গেলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা দার্জিলিং, সিকিম ও শিলিগুড়ির বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে খুলনা হয়ে কলকাতায়ও পণ্য পাঠানোর সুযোগ হবে। কলকাতা থেকে আগরতলায় যাওয়া সময় কমবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বর্তমানে প্রায় ৩১ ঘণ্টা লাগে। এক হাজার ৬০০ কিলোমিটারের পথ কমে হবে মাত্র ৫৫০ কিলোমিটার।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে অবিভক্ত বাংলার বেশিরভাগ নৌ ও রেল পথ আবার চালু হয়েছে। দুই দেশের পারস্পারিক ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই এই সাফল্যের কারণ। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের মধ্য দিয়ে দুই বাংলায় মানুষের যাওয়া-আসা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে কৌশলে সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে যা একেবারেই শেষ হয়ে যায়। আজকের সময়ে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবাসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ শুধু দুই দেশের মধ্যেকার ঘটনা নয়, একই সঙ্গে তা বাংলারও গল্প।

 

/এএমএ/
সম্পর্কিত
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি