করোনা আক্রান্ত হয়ে অকালেই চলে গেছেন পশ্চিমবঙ্গের খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা। এবার স্বামীর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘অনিচ্ছাকৃত খুনের’ অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী নন্দিতা সিনহা। এ ঘটনায় উপনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন তিনি।
নন্দিনীদেবীর বিবৃতিতে ব্যাপক অভিযোগ উঠে এসেছে কমিশনের বিরুদ্ধে। তার যুক্তি শুধু তার স্বামীই নয়, কমিশনের ব্যবস্থাপনার অভাবে মৃত্যু হয়েছে জঙ্গিপুরের প্রার্থী রেজাউল হক, প্রদীপ নন্দীর। কিন্তু সংকটের মধ্যে তৃণমূল থেকে বার বার দফা সংযুক্তিকরণের কথা উঠলেও, কমিশন তাতে গা দেয়নি।
নন্দিনীদেবীর অভিযোগ, পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখেও কমিশন সন্ধ্যা ৭টার পর সভা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। হাইকোর্টের সাবধানবাণীতেও তাদের কোনও নড়চড় হয়নি। তাদের এমন উদাসীনতার ফলে আরও একজন প্রার্থী সমীর দাস প্রয়াত হয়েছেন।
নন্দিনীদেবীর যুক্তি, অতীতে প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনা থেকেও বিন্দুমাত্র শিক্ষা নেয়নি কমিশন। লোকজনের জমায়েত বন্ধে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম-ও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাজল সিনহার স্ত্রী অভিযোগ করেছেন আজ। একই কথা আমরা বারবার কমিশনকে জানিয়েছিলাম করোনা সংক্রমণ যখন এতটা ছড়ায়নি। প্রচুর লোককে অন্য রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। বাংলায় কোভিড নিয়ন্ত্রণেই ছিল তার আগে। এরা এসে কোভিড বাড়িয়ে দিল। কিছুতেই শেষ দফা তিন ভোট সংযুক্ত করলো না কমিশন৷ বরং সকাল বেলা প্রচারের সময় ছেড়ে রাখলেন তারা। বিজেপির সভায় লোকাল ভিড় হচ্ছিল না। তাই নিয়মিত বাইরে থেকে লোক আনতো। বৌদি যা করলেন, সেটা আমরা আগেই বলেছিলাম।
ফিরহাদের আরও সংযোজন একজন সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দরকার ছিল। দুর্ভাগ্য মোদি-শাহ তেমনটা নন। সব প্রতিষ্ঠানকে তারা গ্রাস করে নিয়েছেন। সাংবিধানিক সংকট হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনি লড়াইয়ের ২৪ ঘণ্টা আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন কাজল সিনহা। গত ২৫ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। সূত্র: নিউজ ১৮।









