শুধু গোপনীয়তা নয়। নাগরিকের কোনও মৌলিক অধিকারই চূড়ান্ত নয়। এমনটাই মনে করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের ক্ষমতাসীন মোদি সরকার। দিল্লি হাইকোর্টে হোয়াইটসঅ্যাপের এক মামলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার নিজেদের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে দিল্লি।
সম্প্রতি ভারতে অনলাইনে লেখালেখির ওপর নজরদারি চালানোর বিধান কার্যকরের উদ্যোগ নেয় মোদি সরকার। এর বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয় হোয়াটসঅ্যাপ। ভারতের সংবিধানে নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার যে অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বুধবার তাদের দাবি খারিজ করে দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। সরকারের দাবি, সব অধিকারের ওপরই যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।
২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল থেকেই ভারতে ডিজিটাল নজরদারির বিধান চালু হয়েছে। যার আওতায় অনলাইনে প্রকাশিত যাবতীয় লেখালেখি এবং ভিডিও-র উৎস কেন্দ্রকে জানাতে বাধ্য থাকবে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
মূলত সরকার বিরোধী সমালোচনার রাশ টানতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার। এমনটাই অভিযোগ দেশটির বিরোধী দলগুলোর। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে এই নিয়ম কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে, এ নিয়ে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে যায় হোয়াটসঅ্যাপ।
হোয়াটসঅ্যাপের দায়ের করা মামলাকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সরকারেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আইনি অনুশাসন অনুযায়ী, গোপনীয়তার অধিকার হোক বা যে কোনও মৌলিক অধিকার, কোনও কিছুই চূড়ান্ত নয়। সবকিছুর ওপর অল্পবিস্তর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।’
একই সুর শোনা গেছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের গলায়। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি জাতীয় সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাও সরকারের কর্তব্য।’
রবিশঙ্করের যুক্তি, ‘হোয়াটসঅ্যাপের ওপরও কেন্দ্রের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। কিন্তু তাতে এই অ্যাপের বা তার গ্রাহকদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কোন বার্তা কোথা থেকে আসছে, তা জানাতে বাধ্য তারা। যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষায় গুরুতর অপরাধ বিচার করে দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যায়, তাদের শাস্তি দেওয়া যায়।’ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।








