X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

গোয়ায় বিজেপিবিরোধী জোট বিশ বাও জলে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ২০:১৮

এককথায় গোয়ায় বিরোধী জোট এখন বিশ বাও জলে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে অংক বেশ জটিল হয়েছে বলা যেতেই পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, সেখানে মূলত চতুর্মূখী লড়াই হতে চলেছে। বিজেপি, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, শিবসেনা-এনসিপি জোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস-মহারাষ্ট্র গোমন্তক পার্টি জোটের মধ্যে এই লড়াই হবে। অথচ বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে হটাতে চায় বাকি বিরোধী দলগুলো। কিন্তু কোনওভাবে সম্পূর্ণ জোট গড়ে ওঠেনি তাদের মধ্যে।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বিজেপি-বিরোধী দলগুলো জোট বাঁধার পরিকল্পনা নিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে হারিয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস জোট গড়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছিল। প্রশান্ত কিশোরকে রাজনৈতিক দূত করে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার প্রমুখের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বাংলায় নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের ঘনঘন প্রচার সত্ত্বেও বিজেপিকে হারানোর সুবাদে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপি-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

দিল্লিতে পাওয়ারের বাড়িতে এ নিয়ে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাদের বৈঠকও হয়। প্রথম বৈঠকেই ছন্দপতন হয়েছিল। কংগ্রেসের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে অবশ্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেও  ছন্দ যে ফেরেনি, তা বারবার দেখা গিয়েছে। বরং কংগ্রেস যে বিজেপির বিরুদ্ধে জোরালো লড়াই দিচ্ছে না, সেকথা বারবার বলতে থাকেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই লড়াইটা যে তৃণমূলই দিতে পারে, সেকথাও জোর দিয়ে বলা হয়।

বলাবাহুল্য তাতে কংগ্রেসে ক্ষোভ বাড়ে। এমন একটা পরিস্থিতে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী জোট গড়ার তৎপরতায় অভিযোগ ওঠে। মুম্বাইয়ে গিয়ে এনসিপি, শিবসেনা নেতাদের সঙ্গে মমতার বৈঠক সেই জল্পনার গোড়ায় জল দেয়। আখেরে আপাতত বিরোধী জোট ছত্রখান। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, গোয়া কোথাও সম্পূর্ণ বিরোধী জোটের লেশ মাত্র নেই। উত্তরপ্রদেশেও সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, কংগ্রেস এবং আম জনতা পার্টি আলাদা করে ভোটে লড়ছে। পাঞ্জাবেও তাই। সেখানে কংগ্রেস ও আম আদমি পৃথকভাবে লড়ছে। গোয়াও তার ব্যতিক্রম নয়। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সংগঠন বাড়িয়ে জাতীয় স্তরে প্রভাব ফেলার লক্ষ্যেই ছোট্ট রাজ্য গোয়ায় পা ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে যা তাদের পক্ষে জরুরি।

এর আগে ত্রিপুরার পুর নির্বাচনে অংশ নিলেও সেখানে ভালো ফল করতে পারেনি তৃণমূল। গোয়া এখন তাদের পাখির চোখ। সেখানে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস। তাই তাদের শক্তি খর্ব করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া হয় তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের খামতি তুলে ধরে জোরালো আক্রমণ চালানো হয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও তাদের সরকার গড়তে না পারার অক্ষমতাকে তুলে ধরা হয়। শুধু এই অভিযোগ করেই ক্ষান্ত থাকেনি। কংগ্রেস থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো থেকে শুরু করে একের পর এক নেতাদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে আনা হয়। ফলে বিরোধী জোট তো দূর অস্ত, দু'দলের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়।

শুরুটা এমনভাবে হয়েছিল যে অনেকের ধারণা হয়, তৃণমূলই বোধ হয় গোয়াতে প্রধান বিজেপি-বিরোধী দল হয়ে উঠতে চলেছে। কিন্তু ভোট যত এগিয়ে আসছে, তত দ্রুত ছবিটা পালটাচ্ছে। যারা অন্য দল থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যে তাদের বেশ কয়েকজনের মোহভঙ্গ হয়। তারা আবার এই দল ছেড়েও গিয়েছেন। এদের মধ্যে অ্যালেইক্সো রেজিনাল্ডো লোরেনকো, লাবু মামলেদার প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

একক শক্তিতে গোয়া জয় যে অসম্ভব, তা বুঝতে পেরেই ফের জোটের অংক কষতে বাধ্য হয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও তাদের সেই অংক তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। আম আদমি পার্টি আগেই জোটে যেতে অস্বীকার করেছে। আর কংগ্রেস তো সংঘাতের আবহে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ার সম্ভাবনা উসকে দিলেও তা সফল হয়নি। এমনকি মহারাষ্ট্রে এনসিপি, শিবসেনার সঙ্গে কংগ্রেসের জোট সরকার চললেও গোয়ায় তাদের মধ্যে নির্বাচনি জোট হলো না।

অগত্যা কংগ্রেসকে ছাড়াই এনসিপি এবং শিবসেনা জোট করে লড়বে। আর মুম্বাইয়ে গিয়ে জোট নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত কথা বলে এলেও তার কোনও ছাপই পড়ল না গোয়ায়। ফলে তৃণমূলের জোটসঙ্গী এখনও পর্যন্ত কেবল মহারাষ্ট্র গোমন্তক পার্টি। তাদের জন্য আটটি আসন ছাড়া হয়েছে। বাকি বত্রিশটি আসনে তৃণমূল কতটা লড়াই দিতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব তৃণমূলসহ অন্যান্য বিরোধী দলকে তেমন কোনও গুরুত্বই দিতে চাইছে না।

তাদের মতে, গোয়ায় ভোট হবে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। গত বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। মোট চল্লিশটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছিল সতেরোটি। বিজেপি পেয়েছিল তেরোটি। কিন্তু নির্দলসহ আঞ্চলিক দলগুলো, পরে কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ক  হাত মেলানোয় বিজেপি সেখানে সরকার গড়তে সক্ষম হয়। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কমতে কমতে মাত্র দুইয়ে চলে আসে।

এবার কী হতে চলেছে, সেটা ১৪ ফেব্রুয়ারির বিধানসভা নির্বাচনের ফলেই বোঝা যাবে। তবে এখন বিরোধী জোট দানা না বাঁধতে পারলেও ভোটের পর নতুন সমীকরণ তৈরি হতেই পারে। মনোহর পারিক্করহীন বিজেপি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মুখে কতটা লড়াই দিতে পারবে, তা নিয়ে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে বিরোধী জোট ছত্রখান হওয়াটা যে তাদের লড়াইয়ে অক্সিজেন জুগিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। শেষপর্যন্ত বিরোধী অনৈক্য তাদের ঘরে ফায়দা তুলতে পারে কি না, সেটাই দেখার।   

 

/এএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
কাঁচা মরিচের কেজি ৪০ টাকা
কাঁচা মরিচের কেজি ৪০ টাকা
পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে পালানো বাসচালক গ্রেফতার
পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে পালানো বাসচালক গ্রেফতার
নব্বই দশকের নীলুর নতুন গান
নব্বই দশকের নীলুর নতুন গান
ভারতে নায়করাজ সম্মাননা পেলেন কাঞ্চন
ভারতে নায়করাজ সম্মাননা পেলেন কাঞ্চন
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তছনছ কলকাতা, মৃত ২
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তছনছ কলকাতা, মৃত ২