পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের বগুটুই গ্রামের সহিংসতার ঘটনায় দোষীদের কঠোর সাজা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বৃহস্পতিবার প্রথমে রামপুরহাটে নেমে সার্কিট হাউসে যাওয়ার কথা থাকলেও সরাসরি বগটুই গ্রামে যান মুখ্যমন্ত্রী।
সেখানে স্বজন হারানোদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনারুলকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘হয় আনারুলকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, না হলে যেখান থেকে হোক গ্রেফতার করতে হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ভীষণ ভয়াবহ ঘটনা। আমি ভাবতে পারিনি কখনও এরকম নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে । শুধু কয়েকটা লোকের জন্য অশান্তির আগুন। আনারুলকে জানানো সত্ত্বেও পুলিশ পাঠায়নি। আনারুলকে গ্রেফতার করা হবে।’
তবে, এদিনও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। কেউ ছাড় পাবে না। এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে অন্য কেউ কখনও এরকম কাজ না করে।’
মমতা বলেন, ‘আমি কিছু শুনতে চাই না। কড়া ব্যবস্থা নিন। একে পেলাম, ওকে পেলাম না, এ সব আমি শুনবো না, সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গেলে এই ঘটনা এড়ানো যেত।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা জেনেও পুলিশকে ঠিক মতো কাজে লাগায়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভাদু শেখকে মারার ঘটনা খারাপ। তার পর যা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, ঘৃণ্য। গোটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বোমা, বন্দুক উদ্ধার করতে হবে। সবাই বিচার পাবেন।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে বীরভূমের রামপুরহাট-১ ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হন। এই ঘটনার পর সোমবার রাতভর তাণ্ডব চলে বগটুইয়ে। গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর চলে বোমাবাজি। পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলো থেকে মঙ্গলবার সকালে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: বীরভূমে তৃণমূলের উপপ্রধান খুন, বাড়িতে আগুন, নিহত ১০









