অবৈধভাবে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে আহত বালক রমজান আলি দেশে ফিরতে চাই। রমজান বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, গত ১৭ মে মঙ্গলবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটার মহকুমা হাসপাতালে রমজানকে ভর্তি করা হয়। তার বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা গ্রামে। তার বয়স ১০ বছর। তার পিতা মুনির শরীফ অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিবারসহ ভারতের বেঙ্গালোরে ছিলেন। তিনি গত ১৭ মে রাতে গোপনে দিনহাটা সীমান্ত হয়ে সপরিবারে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে বিএসএফের নজরদারিতে পড়েন। বিএসএফ অবৈধ পারাপার রোধে দূর থেকে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এর মাঝে পড়ে অন্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারলেও শিশু রমজান আহত অবস্থায় আটকা পড়ে যায়। গ্রেনেডের আঘাতের কারণে তাকে দিনহাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সে এখনও চিকিৎসাধীন আছে। শিশুটি জানে না তার মা-বাবার অবস্থা। আবার তার মা-বাবাও জানে না, তাদের শিশুটি বেঁচে আছে কিনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন আচমকা ঝড়, সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির সময় ছেলে এবং তার মা-সহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বাংলাদেশি কোচবিহার জেলার দিনহাটা দুই নম্বর ব্লক দিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে। বিএসএফ তাদের থামতে বললেও তারা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। পরে বিএসএফ একটি স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শিশুটি আহত হয়। তাকে পেছনে ফেলে অন্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
স্টান গ্রেনেড অপ্রাণঘাতী বিস্ফোরক ডিভাইস যা আলোর ঝলকানি এবং উচ্চ শব্দের সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। এটি সাময়িকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এদিনের ঘটনার পর বিএসএফ সদস্যরা রমজানকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে। তারা তাকে বামনহাটের একটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং পরে দিনহাটার মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তার পাঁজরে ও পেটে আঘাত লেগেছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’ রমজান পুলিশকে জানিয়েছে, যে সে গত কয়েক বছর ধরে তার মা-বাবার সঙ্গে বেঙ্গালোরে ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা রমজানের সম্পূর্ণ সুস্থতার অপেক্ষায় ছিলেন। একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবো যাতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো যায়।’
বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন বলেন, আমরা বর্ডার ভিকটিমস রেসকিউ লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স ফোরামের পক্ষ থেকে শিশুটিকে দেশে ফেরাতে সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার, দিল্লি, কলকাতা ও আসামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার, বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ- মাসুম, ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ উভয় দেশের গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ৮৩ ধারা অনুযায়ী এই শিশুটি সাধারণ ব্যতিক্রমের আওতায় প্রতিকার পেতে পারে।
আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন বলেন, উভয় দেশের নাগরিকদের কাছে অনুরোধ বেআইনি পন্থায় পারাপার নয়। বৈধ ও অনুমোদিত পথে পারাপার করুন। আপনার ব্যক্তিগত অপরাধ রাষ্ট্রকে বিব্রত করে।









