বাংলাদেশে মরদেহ নিয়ে যেতে বিপাকে স্বজনরা, পাশে দাঁড়ালো ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব 

রক্তিম দাশ, কলকাতা 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:১৭আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:১৭

শারদীয়ার আগে ভারতে চিকিৎসা এবং ভ্রমণে এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু সেই মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেই যত বিপত্তি। মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েও ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকতে হয়। এমনকি ইমিগ্রেশনের কর্তারা জানিয়ে দেন সঠিক অনুমতি না থাকার কারণে সীমান্ত পার করা যাবে না। 

বহু আকুতি-মিনতি করার পর শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে সীমান্ত থেকে ফের হাসপাতালে ফিরে আসতে হয় মৃতের আত্মীয় পরিজনদের। বিষয়টি জানতে পেরে ওই মরদেহ নিজের দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় কলকাতায় অবস্থিত ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব। 

পাশাপাশি কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রেসক্লাব। এরপরই মিশনের উদ্যোগে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলে। 

জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মালদহ আসেন বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বেনিচক গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমন্ত কর্মকার ও সন্তোষ কর্মকার নামে দুই ব্যাক্তি। 

আত্মীয়দের বাড়িতে ভ্রমণ এবং কলকাতায় চিকিৎসা– মূলত এই দুই উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের ভারতে আসা। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মঙ্গলবাড়ী খইহাট্টা গ্রামে এক আত্মীয়র বাড়িতে উঠে শ্রীমন্ত। এরপর চলতি সপ্তাহের বুধবার মালদা শহরের বুড়াবুড়িতলা এলাকায় অন্য এক আত্মীয় বাড়িতে ঘুরতে আসেন। কিন্তু সেখানে এসেই অসুস্থ হয়ে যান শ্রীমন্ত কর্মকার নামে ৫০ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি নাগরিক। এরপর দ্রুত তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হলে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। মরদেহ ময়নাতদন্তও করা হয়। 

এরপর হাসপাতাল এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন মৃত শ্রীমন্ত কর্মকারের স্বজনরা। কিন্তু হিলি সীমান্তে মরদেহ নিয়ে গেলেও কিছু আইনি জটিলতার কারণে তাদের ফের মালদা হাসপাতালে ফিরে আসতে হয়। এমন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে তাদের আর্জি, মরদেহ যেন বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। 

মৃত শ্রীমন্ত কর্মকারের চাচাতো ভাই লিটন কর্মকার জানান, বাংলাদেশে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে লিখিত অনুমতি আনা হয়। কিন্তু সেই মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি আন্তর্জাতিক সীমান্তে আসলে ইমিগ্রশনের পক্ষ থেকে আটকে দেওয়া হয়। তাদের বলা হয়, মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে আসতে হবে। যা দেবে কলকাতাস্থ বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন। 

উপায় না দেখে পুনরায় সেই মরদেহ সীমান্ত থেকে ঘুরিয়ে ফের মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মর্গের সামনে রাখা হয়। ইতোমধ্যে ওই মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কার্যত নিরুপায় হয়ে ওই মরদেহ নিয়েই তারা মেডিক্যাল কলেজের চত্ত্বরে বসে পড়েন তারা। মরদেহ কীভাবে তারা বাংলাদেশে নিয়ে যাবে তা ভেবেই অকুল কিনারায় পড়েন তারা। যদিও বিশেষ অনুরোধের পর ওই মরদেহ ফের হাসপাতালের মর্গের ভেতরে রাখা হয়। 

খবর পাওয়া মাত্র সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় কলকাতার ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাব। ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. বশির উদ্দিনকেও বিষয়টি জানানো হয়। তিনি আশ্বাস দেন মিশনের তরফ থেকে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করা হবে। 

এরপর শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মিশনে পৌঁছান এক আত্মীয় সন্তোষ কর্মকার। প্রয়োজনীয় নথি দেখে দ্রুততার সঙ্গে শ্রীমন্ত কর্মকারের মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন বশির উদ্দিন। 

এ ব্যাপারে সন্তোষ কর্মকার জানান, ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাবের সহযোগিতা এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের তৎপরতায় খুব দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। ধন্যবাদ জানাই ক্লাব কর্তৃপক্ষদের। তারা না থাকলে জানি না কতদিনে বাংলাদেশে যেতে পারতাম। 

ইন্দো-বাংলা প্রেসক্লাবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মিশনের কর্মকর্তা বসির উদ্দীন (ভিসা প্রধান) জানান, ক্লাবের তরফ থেকে আমরা জানতে পারি যে, বাংলাদেশের এক নাগরিক তিনি মালদায় মারা গেছেন। তাকে সীমান্তে দিয়ে পার করা যাচ্ছে না। এরপরই তার আত্মীয়-স্বজনদের উপ-হাইকমিশনে আসতে বলা হয়। মিশনের তরফে ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। শনিবার শ্রীমন্তের মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া যাবে।

/এএ/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী