টাটার বিদায়ের দায় তৃণমূলের নয়, সিপিএমের: মমতা

রক্তিম দাশ, কলকাতা
১৯ অক্টোবর ২০২২, ২০:০৩আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ২০:০৩

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে আন্দোলনের রেশ ধরে এ সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি এবার সেই সিঙ্গুরের টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানা বিরোধী আন্দোলনকে কার্যত অস্বীকার করলেন তিনি। মমতার দাবি, তৃণমূল নয় টাটাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছে সিপিএম। 

সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানার প্রজেক্ট বন্ধ হওয়া নিয়ে বামেরা বার বার দুষে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে। ২০১১ সালে পশ্চিবঙ্গের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পালাবদলে অনুঘটকের মতো কাজ করেছিল সিঙ্গুর আন্দোলন। আর এই সিঙ্গুর আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বহুদিন পর ফের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল টাটার প্রসঙ্গ। বুধবার শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেলো সেই ন্যানো কারখানার প্রসঙ্গ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেউ কেউ বাজে কথা বলে বেড়াচ্ছে। আমি টাটাকে তাড়িয়ে দিয়েছি, টাটা চাকরি দিচ্ছিল। টাটাকে আমি তাড়াইনি, সিপিএম তাড়িয়েছে। সিপিএম লোকের জমি জোর করে দখল করতে গিয়েছিলেন। আমরা জমি ফেরত দিয়েছি। জায়গার তো অভাব নেই। আমি জোর করে কেন জমি নেবো? আমরা এতো প্রজেক্ট করেছি, কই জোর করে তো জমি আমরা নেইনি। আমি পরিষ্কার করে বলি, আমাদের এখানে যত শিল্পপতি রয়েছেন, কারও মধ্যে ভেদাভেদ করি না। আমরা প্রত্যেককে চাই। তারা এ রাজ্যে বিনিয়োগ করুক। বিনিয়োগ করে এখানে দরকার হলে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি করুক।’

এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী পাল্টা খোঁচা দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘উনি বলছেন টাটাকে উনি তাড়াননি, বামপন্থীরা তাড়িয়েছে। আমি বলছি, ওনার উন্নয়নের জোয়ারে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মানুষ এত কাজ পাচ্ছে, কাউকে ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে কাজের পাহাড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মানুষের পেছনে কাজ এত দৌড়াচ্ছে যে, মানুষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সেই কারণে উনি মানুষকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। যিনি ধর্নায় বসেছিলেন টাটা প্রকল্পের বিরুদ্ধে, তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, তার নাম বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেছিল যারা, তারা বামফ্রন্টের বুদ্ধবাবুর নেতৃত্বাধীন বাহিনী ও যুবকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় অবরোধ করেছেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশ করেছেন। যুবকদের কাজ নেই। ভিনরাজ্যে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। তারপরও কোনও কাণ্ডজ্ঞান থাকলে মুখে আলকাতরা মেখে বসে থাকার কথা। সরকারের পয়সায় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আর ভাষণবাজি করছেন। পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশের দায় মুখ্যমন্ত্রীর। সিঙ্গুরে না হচ্ছে শিল্প, না হচ্ছে চাষ। বারোটা বেজে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তার বাহিনী পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করছে। লম্বা চওড়া কথা বন্ধ করুন। অনেক হয়েছে।’

/এমপি/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম