করোনা মহামারির পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের ফুলবাড়ি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতের জন্য নতুন করে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশিদের। যার ফলে উত্তরবঙ্গের ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষতি হচ্ছে বলেই অভিযোগ পর্যটন ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর।
ভুটান ও নেপালের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশিদের কাছে ফুলবাড়ি জনপ্রিয় ও সুবিধাজনক চেকপোস্ট। কেন নতুন করে সেই চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতের ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া না হলেও ভারতীয়রা অবশ্য ওই চেকপোস্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে যাতায়াত করতে পারছেন। বাংলাদেশিদের অভিযোগ, ফুলবাড়ির জন্য আবেদন করলেও ভিসা মিলছে চ্যাংরাবান্ধা বা বেনাপোলের।
যেসব বাংলাদেশির আগেই ফুলবাড়ি দিয়ে যাতায়াতের জন্য পাঁচ বছর বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেওয়া হয়েছে বর্তমানে হাতেগোনা সেই কয়েকজন ছাড়া ফুলবাড়ি দিয়ে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশিদের নতুন করে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। কেন ভিসা দেওয়া বন্ধ তা নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কিছু বলতে চাইছেন না। জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসুকে ফোন করা হলেও ফোন তোলেননি। এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ না এলে স্থানীয় স্তরে আমরা কিছুই করতে পারব না। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের কাছেও ওই বিষয়ে কোনও নির্দেশ আসেনি।
ফুলবাড়ির অপরপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা। পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মেহেদি হাসান খান বাবলার কথায়, ফুলবাড়ি দিয়ে যাতায়াতের ভিসা না পাওয়ায় বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড়সহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী, রোগীদের মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। প্রায় দুশো কিলোমিটার ঘুরপথে আমাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে অর্থ ও সময় দুই-ই বেশি লাগছে। আমরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন জানিয়েছি ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর জন্য।
পঞ্চগড় পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি হাসানুর রশিদ বাবুর বক্তব্য, শুধু ভারত নয়, নেপাল, ভুটানেও আমাদের দেশ থেকে বহু পর্যটক যান। কয়েক বছর ধরে দার্জিলিংয়ে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক যাচ্ছেন। তাদের পক্ষে যাতায়াতের জন্য ফুলবাড়িই সবথেকে সুবিধাজনক চেকপোস্ট। দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা উচিত। তাতে আমাদের উপকার হবে।
ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ পালের বক্তব্য, ফুলবাড়ি দিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় নিশ্চিতভাবেই উত্তরবঙ্গের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। কেন ওই চেকপোস্ট দিয়ে নতুন ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট করে সমস্যাগুলো দ্রুত মেটানো জরুরি। আমরা চিঠি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানাব।
ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড টুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্রও ফুলবাড়ি দিয়ে যাতায়াত চালুর পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক আসছেন। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা উল্লেখযোগ্য। কোনও সমস্যা থাকলে তা মিটিয়ে ফুলবাড়ি চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশিদের নতুন করে ভিসা প্রদান করা শুরু হোক।









