ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালাসোরের কাছে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বহংগা বাজার স্টেশনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটার গতিতে স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল চেন্নাইমুখী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লেনে স্থির থাকা একটি মালবাহী ট্রেনের ওপর উঠে যায় যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ১৫টির মতো বগি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে ১২৬ কিলোমিটার গতিতে আসে বেঙ্গালুরু থেকে হাওড়াগামী যশবন্তপুর ‘হাওড়া এক্সপ্রেস’। সেই সময় করমণ্ডল এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগির সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয় হাওড়া এক্সপ্রেসের ট্রেনটিও। আর পুরো ঘটনাটি ঘটে ২৩ সেকেন্ডে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন ট্রেনের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০০ জন, তবে হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় অনেকে ভর্তি থাকায় নিহত আরও বাড়তে পারে।
এ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথমত, কেন ঘটলো এমন বিপর্যয়? প্রযুক্তিগত কোনও ত্রুটি নাকি চালকের ভুলে এতোগুলো মানুষের প্রাণ গেলো?
মাত্র কয়েক মাস আগেই এই রেল লাইনে উচ্চগতিতে ট্রেন চলার অনুমতি দেয় ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই দুটি ট্রেনের গতিই ছিল ১১০ এর বেশি।
দুর্ঘটনার সংকেতে বিভ্রাটের তথ্য উঠে এসেছে রেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে। অনুসন্ধানে এসেছে, কলকাতা থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেসকে মূল লাইন দিয়ে চলে যাওয়ার সংকেত দেওয়ার পর তা আবারও তুলে নেওয়া হয়। ফলে স্টেশন এলাকার লুপ লাইন ঢুকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনে আঘাত করে করমণ্ডল এক্সপ্রেস।
যৌথ পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আপ মেইন লাইনে সবুজ সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রেনটি ওই লাইনে প্রবেশ না করে ঢুকেছিল লুপ লাইনে। সেখানে আগে থেকে একটি মালবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। তার সঙ্গে সংঘর্ষে করমণ্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়।’
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়, ‘মাঝে ডাউন লাইন দিয়ে বালেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনের দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়।’
যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।








