পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে দেয়াল লিখছেন সিপিএমের এক প্রার্থী। এমনি ছবি দেখা গেলো মালদার হবিবপুরে। সিপিএমের এই প্রার্থী পুলক সরকারকে ঘিরে শুরু হয়েছে উন্মাদনা।
জানা গেছে, পুলক সরকার বুলবলচন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২২ বুথে প্রার্থী হয়েছেন এবার। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৃণমূলের বিবেক সিংহ। বুলবুলচন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২২ নম্বর বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছাড়াও বিজেপি বিক্রম সরকার, বিএসপির অশোক কুমার বর্মনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিপিএমের প্রার্থী পুলক সরকার বলেছেন, ‘আমার পেশা এটা। ভোট আসলে সব রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখনের কাজ করি। কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি। এবারই প্রথম ভোটে দাঁড়িয়েছি। তবে ছোটবেলা থেকে সংগঠন সামলে এসেছি। ছাত্র জীবন থেকে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অসময়ে কেউ প্রার্থী হতে চাইছে না। তাই আমি নিজে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনের লড়াইয়ের খরচ যোগাতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের হয়ে দেয়াল লিখনের কাজ করতে হচ্ছে। যদিও এটা আমার পেশা। কিন্তু নিজে যখন প্রার্থী তখন অপরের দেয়াল লিখন করতে গিয়ে কথা শুনতে হচ্ছে অনেকের।’
পুলক শিল্পী হলেও রাজনৈতিক জীবনে সিপিএমের একনিষ্ঠ কর্মী। একসময়ে দাপিয়ে এসএফআই, ডিওয়াই এফআইসহ সিপিএমের একাধিক সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন। দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দেয়াল লিখন করছেন। সন্ধ্যায় সিপিএম প্রার্থী হিসেবে নিজের সমর্থনে ভোট প্রচার করছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি নিজের দল ছড়াও বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হয়ে এই লিখনের কাজটি করছেন।
একটি দেয়াল লিখনের জন্য তিনি গড়ে ৩০০ টাকা পান। সব মিলিয়ে ভোটের মৌসুমে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয় তার। এই আয় দিয়েই ভোটে লড়বেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি শুভময় বসু বলেছেন, এটাই সংস্কৃতি। তিনি পেশাগতভাবে কাজ করছেন। হয়তো তৃণমূল সাপোর্ট করছে। এই সংস্কৃতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।









