তরুণরা বিয়ের পাত্রী পাচ্ছে না, ভারতের গ্রামাঞ্চলে নতুন সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ মে ২০২৪, ২২:২২আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ২২:২২

জলবায়ু পরিবর্তন, স্বল্প আয়, উচ্চ ঋণ ও সরকারি নীতির কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের গ্রামগুলোতে তরুণ কৃষকদের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তা প্রকট। অতি বৃষ্টি বা খরায় অঞ্চলটির কৃষদের অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে। এমন দরিদ্র কৃষকদের বিয়ে করার মতো পাত্রীদের সংকট দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরিদ্র তরুণ কৃষকদের বিয়ে না হওয়ার একমাত্র কারণ তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিদারুণ অভাব-অনটন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পূর্বে বিদর্ভ অঞ্চল। অমরাবতী ও নাগপুর বিভাগের ১১টি জেলা নিয়ে গঠিত অঞ্চলটিতে কৃষকদের আত্মহত্যার হার রীতিমতো আতঙ্কজনক। প্রতি বছরই কৃষকদের আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তবে সম্প্রতি এখানে আরও এক সংকট দেখা দিয়েছে–কৃষকরা বিয়ে করার জন্য পাত্রী খুঁজে পাচ্ছেন না।

রাজ্যের ইয়াভাতমাল জেলার রাভেরি গ্রামের এক অবিবাহিত কৃষক ভূষণ উন্ডে বেশ আক্ষেপ নিয়ে জানালেন, স্বল্প উপার্জন ও আর্থিক অনটনের কারণেই আমার মতো তরুণদের কোনও নারী বিয়ে করতে চায় না।

৩১ বছর বয়সী ভূষণ কৃষিকাজের পাশাপাশি পাশের গ্রামের একটি হাসপাতালে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবেও কাজ করেন। কিন্তু সেই চাকরির বেতনও কম। আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় এখনও বিয়ে করতে পারেননি তিনি। কোনও নারী যে তাকে বিয়ে করবে, সেই সম্ভবনাও কম বলে মনে করেন এই তরুণ।

ভূষণ বলেন, বিয়ের জন্য গত বেশ কয়েক বছর ধরে টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। বউ এসে থাকবে বলে বহু কষ্টে তিনি একটি বাড়িও করেছেন। আর এতেই তার উপাজর্নের প্রায় সবটাই শেষ হয়ে গেছে। বিয়ের জন্য তার হাতে কোনও অর্থকড়ি নেই। কবে নাগাদ কিছু অর্থ জমা করতে পারবেন সেটিরও কোনও নিশ্চয়তা নেই।

কৃষকদের জন্য সহায়ক ফসলের মূল্য না থাকায় এখানকার বাজার ব্যবস্থায় সবসময় অস্থিরতা থাকে। ফলে ন্যায্য মূল্য পান না কৃষকরা। এছাড়া কৃষি ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা না থাকাতেও তাদের দুর্ভোগ বাড়ে। রয়েছে খরা বা বৃষ্টি না হওয়া। আর এ সব কিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।  

স্থানীয় রক্ষণশীল সমাজে উপার্জনকারী ব্যক্তি এখনও প্রধানত পুরুষ। সেই পুরুষেরই যদি আয় না থাকে তাহলে, কেন কেউ তাকে বিয়ে করবে?, আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন আরেক কৃষক আশিস যাদব। ৩৬ বছর বয়সী আশিস গত ৫ বছর ধরেই পাত্রী খুঁজছেন।

হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, আমার কলেজ ব্যাচের মাত্র ৩০ শতাংশ পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন। বাকিরা শুধু ঘুরে বেড়াচ্ছে। একজন নারী বিয়ের জন্য এমন পুরুষ চায়, যার চাকরি আছে অথবা ২০ একর চাষযোগ্য জমি আছে।  

বিজেপি, কংগ্রেসসহ কোনও রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেও নেই তাদের জন্য কোনও সুখবর। ফলে খুব শিগগিরই তাদের জীবনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও কম।

মানবাধিকারকর্মী আরতি বাইস বলেন, পুরুষদের জন্য আরও নিরাপদ, আরও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিবাহযোগ্য নারীদের পরিবারও কৃষকদের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সচেতন। কারণ তারাও কৃষক। ফলে তারও তাদের কন্যাকে একই অনিশ্চয়তায় ফেলতে চান না।

আরতি বাইস অনেক দিন ধরেই বিদর্ভের কৃষক ও তরুণদের সমস্যা নিয়ে আরেক মানবাধিকারকর্মী  স্বরাজ মিত্রার সংস্থার হয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, কনের পরিবারগুলোর সরকারি চাকরিজীবী পাত্র বেশি পছন্দ। যদি কোনও পুরুষ বেসরকারি চাকরি করেন, তখন পাত্রীদের পরিবার চায় কৃষি জমি যেনও বেশি থাকে। যাতে করে চাকরি চলে গেলেও কৃষিকাজ করে সংসার চলে।

এই মানবাধিকারকর্মী আরও বলেন, এর ফলাফল ভয়ানক। কারণ এখানকার নারী-পুরুষ কেউই নিজেদের জন্য পাত্র-পাত্রী খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে তাদের বয়স ৩০ বছর পার হলেও, বিয়ে হচ্ছে না।

পাশের ওয়ার্ধা জেলার ২৮ বছর বয়সী এক নারী রেখা গাইকওয়াড বলেন, মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়ছে। তাই তারা আরও ভালো জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করে।

তারপরও প্রতিবছর আরও ভালো ফসল ও ভালো দাম পাওয়ার আশায় বেঁচে থাকেন বিদর্ভের কৃষকরা। সেই সঙ্গে বেঁচে থাকে বিয়ের স্বপ্নও।

/এস/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম