বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে ওপারের হিন্দুদের বাঁচান! শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে মৌলবাদীদের অত্যাচারের হাত থেকে হিন্দুদের বাঁচাতে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আবেদন করেছে সর্বভারতীয় সংগঠন নিখিল ভারত বাঙালি সমন্বয় সমিতি। শনিবার (১০ আগস্ট) কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরেন সমিতির নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী ডা.জগদীশ চন্দ্র হালদার, বিজেপির বিধায়ক অসীম সরকার, বিজেপির বিধায়ক অম্বিকা রায়, প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর, মতুয়া গবেষক ড. বিরাট বৈরাগ্যরা।
নিখিল ভারত বাঙালি সমন্বয় সমিতি সর্বভারতীয় সভাপতি ডা. সুবোধ বিশ্বাস বলেন,‘সম্প্রতি বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের জীবনে নেমে এসেছে ভয়ংকর বিপর্যয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এবং রাতের অন্ধকারে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মন্দির ভাঙচুর, দোকান লুটপাট, অমানবিক নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ ও পৈশাচিক তাণ্ডব অবাধে চলছে। হাজার হাজার অসহায় নারী-পুরুষ বৃদ্ধ শিশু সপরিবারে ভারতের দিকে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে শিশু, বৃদ্ধরা জীবন সংকটে ভুগছে। বুক ভরা আশা নিয়ে তাঁরা ভারতের দিকে পাড়ি দিয়েছেন, কিন্তু ভারত সরকার বর্ডার সিল করে দিয়েছে। জন্মসূত্রে তারা অখণ্ড ভারতবর্ষের মানুষ। এই হতভাগ্য অসহায় মানুষগুলো যাবে কোথায়?’
এই দায় ভারত সরকারকে নিতে হবে বলে দাবি করে সুবোধ বিশ্বাস আরও বলেন, ‘ভারত স্বাধীনতার জন্য তাঁদের পূর্বপুরুষের অতুলনীয় অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তীতে লোক বিনিময় না করে তৎকালীন রাষ্ট্রনায়কেরা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমস্যা জিইয়ে রেখেছেন। এ এক ভয়ংকর রাজনৈতিক ভুল। অতএব এ দায় রাষ্ট্রের। ভারত সরকারকেই এই দায়ের দায়িত্ব নিতে হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১৯ শতাংশ। বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশ। এই অন্যায়ের প্রতিকার না হলে তাদের সামনে দুটি বিকল্প রাস্তা খোলা রয়েছে। বাংলাদেশ ত্যাগ করা অথবা নিজ ধর্ম ত্যাগ করা। ভারত সরকারের কাছে আমাদের দাবি বাংলাদেশের অসহায় মানুষের জীবন, মানসম্ভ্রম ও বিষয় সম্পত্তির সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হোক। নাগরিকত্ব আইনের ২০১৪ সালের সময়সীমা বর্ধিত করে যারা ভারতে এসেছে ও যারা আসতে বাধ্য হচ্ছে তাদের জন্য নাগরিকত্ব প্রদান সরলীকরণ করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশভাগের পর থেকে বাংলাদেশে কোনও ঘটনা ঘটলেই বারবার টার্গেট করা হয় হিন্দুদের। একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আত্মবলিদান দিয়েও ওপারে আজও বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত নন। প্রতিবারই নানা অজুহাতে ঘর, সম্পত্তি ছেড়ে তাদের এ দেশে চলে আসতে হয়। এভাবে কতদিন চলবে? এবার সময় এসেছে এ নিয়ে নতুন করে ভাবার।’
বিরাট বৈরাগ্য বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্যাতিতদের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান দাবিতে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। যাতে তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয়। না হলে বাংলাদেশে শেষ হিন্দুটি এ দেশে না আসা পর্যন্ত এসব চলতে থাকবে।’
বিধায়ক দুলাল বর বলেন, ‘আমিও মনে করি বাংলাদেশি হিন্দুদের রক্ষা করার জন্য একাত্তরের মতো প্রচেষ্টা শুরু করতে হবে। না হলে, তাদের বাঁচানো যাবে না। ভারত সরকারকে এ বিষয়টা ভাবতে হবে। কেন তারা সম্পত্তি, ঘরবাড়ি ছেড়ে আসবেন বার বার?’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে জাতিসংঘে ভারতকে সোচ্চার হতে হবে। এ নিয়ে এবার পথে নামার সময় এসে গিয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দুদের বাঁচাতে না পারলে এই মৌলবাদীদের হাত থেকে আমরা পশ্চিমবঙ্গকেও বাঁচাতে পারব না। এরা সবকিছু আগামী কয়েক বছরে গ্রাস করে নিয়ে আমাদের ফের শরণার্থী বানাবে। তখন আর কিছুই করার থাকবে না।’








