পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়তে পারে ভয়াবহ সাইক্লোন দানা। তৎপর রাজ্য প্রশাসন। সব থেকে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে মাইকিং। উপকূল সংলগ্ন এলাকায় থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতর বলছে,স্থলভাগের সঙ্গে ক্রমেই কমছে দূরত্ব। শেষ আপডেট বলছে বর্তমানে স্থলভাগ থেকে প্রায় সাড়ে সাতশো কিলোমিটার দূরে রয়েছে সাইক্লোন দানা। রাত পোহালেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তাতেই ভয় বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে কলকাতাতে। প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে সেই ঝড়।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র সৈকত দীঘায় হাজির হয়েছেন বহু পর্যটক। ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হতে পারে,সেই দৃশ্য দেখতেই এসেছেন অনেকে। পর্যটকরা যাতে কেউ সমুদ্রে না নামতে পারে, তার জন্য সতর্ক প্রশাসন। দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে সৈকত। সেই দড়ির একপাশ থেকেই সমুদ্র দেখতে পাবেন পর্যটকরা।
পূর্ব মেদিনীপুরের ২৫ টি ব্লকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বিশেষত নীচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনকে সমুদ্রতট থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। কলকাতায় বুধ, বৃহস্পতিবার- এই ২ দিন অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওড়িশার পুরী ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝে সাইক্লোনের ল্যান্ড ফলের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ দিন ভারী থেকে চরম ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তাল হবে সমুদ্র,মৎস্যজীবীদের জন্য জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
লাইনে জল জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। তাই জায়গায় জায়গায় পাম্প বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেন চলাচল ব্যাহত হতে পারে,এমন সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পূর্ব রেল। যে সব স্টেশনে বেশি প্রভাব পড়তে পারে, সেখানে পর্যাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ও টেলিকম স্টাফ মোতায়েন করা হচ্ছে। সেই তালিকায় থাকছে নামখানা,ডায়মন্ড হারবার ও হাসনাবাদ।
ঘূর্ণিঝড় দানার কারণে যাতে বিমান চলাচলে কোনও অসুবিধা না হয় বা বিপদ এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে। ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই বিমানগুলোকে কীভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, কোথায় রাখা হবে, উড়ান বাতিল হবে নাকি ঘুরপথে চলবে এই সমস্ত সামগ্রিক বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক হয়েছে। বিধ্বংসী ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে বিমানের চাকা বেঁধে রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে। বিমানবন্দরে টার্মিনালের ঢোকা এবং বেরোনোর গেটে বালির বস্তা ফেলার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।
উপকূলবর্তী ভারতীয় সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জের উপরেও এই ঘূর্ণিঝড় যথেষ্ট আঘাত আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। তাই এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই আতঙ্কিত হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি, সাহেবখালি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষরা। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদী বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় একটু ঝড়-বৃষ্টি আসলেই বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়। হিঙ্গলগঞ্জের রায়মঙ্গল কালিন্দীসহ বিভিন্ন নদীর বাঁধের বেহাল দশা।
এই অবস্থায় এই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে নদীর জলের চাপ বাঁধ ধরে রাখতে পারবে না। বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হবে বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে বড়সড়ো ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে এই এলাকার চাষীদের।








