যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেনসহ অপরাপর ইউরোপীয় দেশগুলো ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকেই দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নতুন নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া আল্টিমেটামের সময় পার করে দেওয়ার পর এই ঘোষণা এলো। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আল্টিমেটামকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছিলেন মাদুরো। তার ভাষ্য, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতির কোনও কিছুই এখন আল্টিমেটামে দিয়ে কার্যকর করা যায় না। সেটা সামন্তবাদ ও উপনিবেশবাদের যুগ ছিল।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মাদুরোকে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দিয়েছিল। গত রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তার সময় শেষ হয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো মাদুরোর বদলে বিরোধীদের নেতা গুইদোকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল। অন্যদিকে তা জুয়ান গুইদো রবিবারই (৩ জানুয়ারি) বলে দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলিয়ানদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক ‘ত্রাণ সহযোগীদের’ নেটওয়ার্ক বানাবেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপরাপর সহযোগী দেশগুলো এখন থেকে জুয়ান গুইদোকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণ করবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য নতুন নির্বাচন হচ্ছে।’
ভেনেজুয়েলার জন্য একটি ‘কন্টাক্ট গ্রুপ’ গঠনের প্রশ্নে নিজের সমর্থন জানিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেছেন, নিজেদের মতামত গণতান্ত্রিক ও মুক্তভাবে প্রকাশের অধিকার রয়েছে ভেনেজুয়ালাবাসীর। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলো আশা করে, গুইদো খুব দ্রুত একটি নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করবেন।’ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ভাষ্য, ভেনেজুয়ালার ‘নিজের ভাগ্য নিজের লেখার সুযোগ পাওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটা এক দায়িত্ব, যে তারা প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’
নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর আহ্বানের জবাবে নিকোলাস মাদুরো মন্তব্য করেছিলেন: আমরা কারও কাছ থেকে কোনও আল্টিমেটাম গ্রহণ করি না। ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত সাত দিনের মধ্যে ক্যাটালোনিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া। আর না দেওয়া হলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব,’ এরকম কোনও কিছু যদি আমি বলি তাহলে বিষয়টি যেরকম দাঁড়ায় তাদের দাবিও সেরকম। আন্তর্জাতিক রাজনীতির কোনও কিছুই এখন আল্টিমেটাম দিয়ে কার্যকর করা যায় না। সেটা সামন্তবাদ ও উপনিবেশবাদের যুগ ছিল।’
গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেনেজুয়েলার নির্বাচন। তাতে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। কিন্তু বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদের এমন দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। অর্থনৈতিক সংকটে জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। আর ব্যাপক এই বিক্ষোভের জেরেই গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোর পক্ষে দাঁড়িয়েছে চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশ।







