মিসরের একটি আদালত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। শনিবার গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগের মামলায় দেওয়া রায়ে আরও ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন।
মুরসির আইনজীবী আব্দেল মোনেইম আব্দেল মাকসুদ বলেন, আদালত মুরসিকে কাতারের কাছে গোপন নথিপত্র পাচারের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে। তবে বেআইনি এক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
আইনজীবী আরও জানান, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গোপন নথিপত্র চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আরও ১৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় ৩ সাংবাদিকসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছে। কাতারের কাছে গোপন দলিল পাচারে সহযোগিতার দায়ে আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ সাজা দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ সাংবাদিক হলেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ হিলাল ও জর্দানের নাগরিক আলা ওমর মোহাম্মদ সাবলান। এরা দু’জনই কাতারভিত্তিক আল- জাজিরা চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত। তৃতীয় সাংবাদিক হলেন আসমা মোহাম্মদ আল খাতিব। এই নারী সাংবাদিক মুসলিম ব্রাদারহুডপন্থী সংবাদমাধ্যম রাশদ-এর প্রতিবেদক।
মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশটির ইসলামি শরিয়া আইনের রাষ্ট্রীয় ভাষ্যকার মুফতির কাছে পাঠানো হয়েছে। মিসরের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে মুফতির মতামত নেওয়া প্রয়োজন। যদিও তা মানা বাধ্যতামূলক নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
২০১২ সাল থেকে ২০১৩ সালে জুলাই পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে কাতার ছিল মুরসি ও তার মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের প্রধান সমর্থক। এরপর সামরিক বাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং আটক করে।
২০১১ সালে হোসনি মোবারক বিরোধী গণঅভ্যুত্থানকালে জেল থেকে পলায়ন এবং কয়েকটি থানায় হামলায় ভূমিকার কারণে অপর এক পৃথক মামলায় মুরসি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর দুটি মামলায় মুরসিকে যাবজ্জীবন ও ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
/এএ/








