তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম সেনাদের একাংশের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওই ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায়’ ১৬১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৪০ জন। অন্তত ২ হাজার ৮৩৯ জন সেনা সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আটক সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করা হলেও এখনও পরিষ্কার নয় এর পেছনে কারা রয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ও সমর্থিত ইসলামি সংস্কারক নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছেন। তবে বিষয়টিও এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় ১৯০ জনের প্রাণহানির কথা জানিয়েছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া তুরস্কের ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল উমিত দুনদার। ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, নিহদের মধ্যে ৪১ জন পুলিশ সদস্য, দুইজন সেনাসদস্য, ৪৭ জন বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। নিহত বাকি ১০৪ জনকে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারী বলছে তুরস্ক।

এক বিবৃতিতে গুলেন এই ক্যু প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।
জানা গেছে, বিদ্রোহীদের একাংশ এখনও হামলা চালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ হচ্ছে। আঙ্কারা, ইস্তানবুল এবং দেশটির আরও কিছু স্থানে রাতভর গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। তবে শনিবার ইস্তানবুলে বসফোরাস সেতুতে বেশ কিছু সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অভ্যুত্থানচেষ্টার একপর্যায়ে শনিবার তারা আত্মসমর্পণ করে। এ সময় ক্ষমতাসীন সরকারের সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মারমারিস থেকে ইস্তাম্বুলে ফিরতেই তার সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। এরদোয়ান এক ভাষণে এই ক্যু প্রচেষ্টাকে দেশের ওপর ‘জঘন্য’ আক্রমণ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, আটক-গ্রেফতারের ভয়াবহতার পরও গোলাগুলির শব্দ ও বিভিন্ন ছবিতে এখনও বিদ্রোহীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

একদিকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সমাপ্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। অন্যদিকে ইস্তানবুল ও আনকারার মতো বড় বড় শহরগুলোতে এখনও গোলাগুলির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে ইমেইলে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের পাঠানো একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অভ্যুত্থানপন্থী সেনা অংশটি এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে। ‘শান্তি পরিষদ’ নামের ওই অভ্যুত্থানপন্থী বাহিনী জনগণকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও জানায়, তুরস্কের বড় বড় শহরগুলো এখনও গুলির শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠেছে।

তবে মিডিয়ার কাছে পাঠানো বিবৃতিতে তুরস্কের সেনাবাহিনীর সরকারপন্থী অংশ দাবি করে, গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা ‘পুরোপুরিভাবে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে’। সেই গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা যেখানে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় থাকবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয় অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীরা এখনও বেশ কিছু সামরিক হেলিকপ্টার দখল করে রেখেছে। সেনা অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টাকারীদের নিয়ন্ত্রণাধীন উড়ন্ত বিমানগুলোকে ভূপাতিত করার নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম খবরটি নিশ্চিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে এফ-১৬ বিমান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/এএ/








