তুরস্কের সংঘাতপূর্ণ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোদ্ধাদের এক হামলায় পাঁচ তুর্কি সেনা নিহত হয়েছেন। বুধবার ইরাক সীমান্তবর্তী উলুদের এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এখবর জানিয়েছে।
তুরস্ক সরকার এ বোমা হামলায় পিকেকে যোদ্ধাদের দায়ী করেছে। গত বছরের জুলাই মাসে দুই বছরের একটি অস্ত্র বিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর তুরস্কের সেনারা কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান পুনরায় জোরদার করেছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, গত বছর অস্ত্র বিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পিকেকে’র বিভিন্ন হামলায় তুরস্ক নিরাপত্তা বাহিনীর ছয় শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
অপরদিকে তুরস্ক ও উত্তর ইরাকে ওই গ্রুপের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সাত হাজারের বেশি কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
তুর্কি সরকারের সঙ্গে কুর্দিদের বিরোধী অনেক পুরনো। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী পিকেকে-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই হয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর। ২০১২ সালে তুরস্ক সরকার ও কুর্দিদের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তি দীর্ঘ আড়াই বছর পর গত জুন মাসে ভেঙে যায়। এরপর দুপক্ষের সংঘাত ফের শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শান্তিচুক্তি ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য দেশটির সরকার ও পিকেকে যোদ্ধারা একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। তুরস্কের অভিযোগ, পিকেকের সঙ্গে সিরিয়ার কুর্দি সংগঠন কুর্দিশ পিপলস প্রটেকশন ইউনিটের (ওয়াইপিজি) ঘনিষ্ঠ যোগসাজশ রয়েছে। এ অঞ্চলে কুর্দিরা নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে (পিকেকে) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সম্প্রতি তুর্কি বাহিনীর অভিযানে দুই শতাধিক কুর্দি বিদ্রোহী নিহত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। সূত্র: এএফপি।
/এএ/








