ক্যাম্প স্পেইসার হত্যাযজ্ঞে জড়িত থাকার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ৩৬ জিহাদিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরাক। রবিবার সকালে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ধিকার প্রদেশের রাজধানী নাসিরিয়ার গভর্নরের মুখপাত্র বলেন, সকালে (রবিবার) নাসিরিয়াহ কারাগারে স্পেইসার হত্যাযজ্ঞের জন্য ৩৬ জন দোষীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
মুখপাত্র জানান, বিচারমন্ত্রী হায়দার আল-জামিলি ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্পেইসার ক্যাম্প হত্যাকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ৪০০ ছিলেন ধিকার প্রদেশের। যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে তাদের সবাই ইরাকি নাগরিক বলে মনে করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি গত মাসে ইরাকের বাগদাদে বোমা বিস্ফোরণে ৩০০ জন নিহতের পর বলেছিলেন, সন্ত্রাসীদের বিচার দ্রুত শেষ করা হবে।
বিচারের সময় অভিযুক্তদের অনেকেই দাবি করেছেন, হত্যাযজ্ঞের সময় তারা তিকরিতের কাছাকাছি ছিলেন না। অনেকে জানান, তাদেরকে আইনজীবী নিয়োগ দিতে দেওয়া হয়নি অথবা নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।
২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের তিকরিত শহরে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি সাবেক ঘাঁটিতে হামলা চালায় আইএস। ক্যাম্প স্পেইসার হত্যাযজ্ঞ বলে এ হত্যাকাণ্ড পরিচিত। এ ক্যাম্পে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের প্রশিক্ষণ চলছিল। বেশির ভাগই ছিলেন শিয়া ক্যাডেট, যারা আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। এ হত্যাযজ্ঞে অন্তত ১ হাজার ৭০০ জনকে হত্যা করে আইএস।
১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সেনাবাহিনীর রিক্রুট ক্যাম্পে ‘মরু ঝড়ে’ হতাহতের পর ক্যাম্প স্পেইসার নামকরণ করা হয়। আইএস তিকরিত দখলের পর ক্যাম্পটি জিহাদিরা ঘিরে রাখে। কয়েক হাজার বন্দিদের মধ্যে শিয়াদের আলাদা করে লরিতে তোলা হয়। তাদের জোর করে মাটিতে মুখ রেখে শুয়ে পড়তে বলা হয়। এরপর তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ট্রেঞ্চ খুঁজে তাদের লাশ পুঁতে রাখা হয়।
হত্যাযজ্ঞের পর আইএস ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। এক বছর ২০১৫ সালে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। ইরাকি সেনাবাহিনী যখন শহরটি পুনর্দখল করে তখন এসব গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/








