গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় মাত্র এক সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ান বিমান হামলায়। বিদ্রোহীদের কাছে সিরীয় সরকার কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর হতাহতের ঘটনা বেড়ে গেছে। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে সিরিয়ায় তৃণমূলে কাজ করা অ্যাক্টিভিস্টদের সংগঠন লোকাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি (এলসিসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক খবরে বিষয়টি জানা গেছে।
এলসিসির দেওয়া তথ্য অনুসারে, ১৩ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্টের মধ্যে ৫০৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯৬ জন শিশু ও ৭৩ জন নারী রয়েছেন।
এলসিসিরি দাবি, সিরিয়া ও রাশিয়ার বিমান হামলায় আলেপ্পো, ইদলিব, দামেস্ক ও হামা এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কিছুদিন আগেও অবরুদ্ধ আলেপ্পোর উপকণ্ঠে নিহত হয়েছেন ২০৫ জন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ বাহিনীর অবরোধ ভাঙতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ ও অবরোধ ভাঙার পর বিমান থেকে বোমা হামলায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এলসিসি আরও জানিয়েছে, ইদলিবে ৯৩ জন, হোমসে ৫২ জন, দামেস্কতে ৫১ জন ও ডেইর এজরে ৩৮ ও হামাতে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
মানবিজে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণেও নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
এলসিসির অ্যাক্টিভিস্ট মোয়াতাজ হামৌদা জানান, আসাদ সরকার বিদ্রোহীদের কাছে ভূমি হারানোর পর বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আলেপ্পোতে সামরিক পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে রাশিয়া। সরকারপন্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রবল প্রতিরোধ ও আসাদবাহিনীর অবরোধ ভেঙে সামরিক দুর্গ দখল করায় হতাশ রাশিয়া ও সিরিয়া। তারা উন্মাদের মতো ক্লাস্টার মিসাইল, সাদা ফসফরাস ও নাপাম বোমার মতো নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে।
আলেপ্পোর স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দা জৌহির আল-শিমালে জানান, আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও বিপনীবিতানগুলো হামলার শিকার হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
/এএ/








