তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার শহর সিজর-এ এক পুলিশ ভবনের বাইরে একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণে অন্তত ১১ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আরও অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আল-জাজিরা জানায়, ৮ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও হামলাকারীদের বন্দুকযুদ্ধের পর শুক্রবারের হামলা হলো। আল-জাজিরা ট্রাকবোমার কথা জানিয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনের ভবন থেকে ধোঁয়া ও ছাই উড়তে দেখা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর খবরে আহতের সংখ্যা ৬৫ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় বহুতল একটি ভবন বিস্ফোরণের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দ শোনা গিয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলো কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-কে দায়ী করা হচ্ছে।
হারিয়েত পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ১২টি অ্যাম্বুলেন্স ও দুটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
সিরনাক প্রদেশের শহর সিজর। এ শহরের সঙ্গে সিরিয়া ও ইরাকের সীমান্ত হয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই কুর্দি। পিকেকে তুরস্কের একটি সশস্ত্র সংগঠন। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি পিকেকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে এসব দেশ। সিজর শহরটিতে পিকেকে যোদ্ধার সঙ্গে লড়াইয়েরত তুর্কি সরকার গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার কারফিউ জারি করে।
এদিকে, তুর্কি সেনাবাহিনী ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার সহায়তায় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর জারাব্লুসের আইএসের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে সিরীয় বিদ্রোহীরা দাবি করেছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, তুর্কি অভিযান কেবল আইএস জঙ্গিদের জন্য নয়। তুর্কি বাহিনী একই সঙ্গে কুর্দি যোদ্ধাদের উপর হামলা চালাবে।
উল্লেখ্য, সোমবার সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কুর্দিদের পিপল’স প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। তুর্কি সেনাবাহিনী সীমান্ত শহর জারাব্লুসে গোলাবর্ষণ করে। একই সঙ্গে মানবিজের কাছে কুর্দি ওয়াইপিজি-র অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালায় তুরস্ক। এক তুর্কি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ওয়াইপিজে-কে লক্ষ্য করে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে তুরস্ক। ওয়াইপিজি-কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর একটি শাখা বলে মনে করে তারা। ১৯৮০-র দশক থেকে কুর্দিদের স্বাধীনতার জন্য তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছে পিকেকে।
কুর্দি যোদ্ধারা আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন মিত্রশক্তি। একইভাবে তুরস্কও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। কিন্তু কুর্দিদের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে বরাবরই নেতিবাচকভাবে দেখে আসছে তুরস্ক। সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, বিবিসি।
/এএ/








