সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আলেপ্পো শহরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা বাসের বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। সিরীয় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে অবরুদ্ধ চারটি শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি স্থগিত হয়ে গেলে আলেপ্পোর শহরতলিতে বাসে আটকা পড়েছেন কয়েকহাজার মানুষ।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সিরিয়ার সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ২২ জন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, অনেক মানুষের লাশ বাসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
সরকার ও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত চারটি শহরের অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি অনুসারে কয়েক হাজার মানুষকে বাসে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তবে শুক্রবার শেষ রাতের দিকে চুক্তি স্থগিত হয়ে গেলে মাঝপথে আটকা পড়েন এসব মানুষ। আল-ফৌয়া ও কেফরায়া শহরের মানুষ রাশিদিন এলাকায় অপেক্ষা করছেন। মাদায়া শহরের বিদ্রোহী ও বাসিন্দারা সরকার নিয়ন্ত্রিত রামৌসাহ এলাকায় বাসে অপেক্ষা করছেন। তাদের ইদলিব থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, আলেপ্পোর শহরতলী রাশিদিন এলাকায় অপেক্ষমান বাসে এই আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। বাসগুলো শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। সরকার নিয়ন্ত্রিত গ্রামগুলোতে প্রবেশের জন্য বাসবহরটি অপেক্ষা করছিল। স্থানীয় টেলিভিশনে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জন বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলাটির দায় কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। অতীতে এ অঞ্চলে শিয়াদের লক্ষ্য করে ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলা চালিয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাড়িটি শিশুদের খাবার নিয়ে বহরে যুক্ত হয়েছিল। নিহতদের বেশিরভাগই ফৌয়া ও কেফরায়া শহরে বিদ্রোহীদের হাতে অবরুদ্ধ ছিলেন। সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
/এএ/








