ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান তৈরি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নের জন্য ইরানের কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। শনিবার রাজধানী তেহরানে প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক প্রদর্শনীতে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রাসনের শিকার হয়েছি। ফলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন এবং বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। কেবল দেশ রক্ষার স্বার্থে আমরা শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছি এবং এটা কোনও দেশের বিরুদ্ধে হুমকি নয়।’ যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ট্যাংকসহ বহু যুদ্ধাস্ত্র ইরানের বিশেষজ্ঞরাই তৈরি করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃহৎ শক্তিগুলোর অবৈধ স্বার্থকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বার্তা সারা বিশ্বে পৌঁছে গেছে, যা ছিল খুবই জরুরি।’
চলতি বছরের মে মাসে নির্বাচনের মুখোমুখি হবেন রুহানি। আশা করছে, দ্বিতীয় দফায় চার বছরের জন্য তিনি নির্বাচিত হতে পারেন। তার বিরোধীরা সমালোচনা করছেন, রুহানি এখন পশ্চিমাদের বিরোধিতা করেন না। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে পারমাণবিক কর্মসূচি সংকুচিত করতে রাজি হওয়ার পর থেকে এই সমালোচনা চলে আসছে।
কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুহানির সমালোচনা করেছেন। এর আগে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবেন। জানুয়ারিতে ইরান নতুন ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর ট্রাম্প টুইট করে বলেছিলেন, ইরান আগুন নিয়ে খেলছে।
ড. হাসান রুহানি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকাসহ অন্যান্য বৃহৎ শক্তি ও রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশের আগ্রাসনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাহীনতার জন্য এসব দেশই দায়ী।
রুহানি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পরও আমরা বেশ ক'বার সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছি। সূত্র: রয়টার্স।
/এএ/








