জেরুজালেমে উগ্রপন্থী ইহুদিদের গণপিটুনির শিকার হয়েছেন তিন ফিলিস্তিনি। গণপিটুনির ঘটনাটি এক সপ্তাহ আগে ঘটলেও বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। গণপিটুনির সময় ইসরায়েলি পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মান নিউজ-এর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।
ইসরায়েলের দৈনিক পত্রিকা হারেৎজ ভিডিওটি সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, লেহাভা নামে পরিচিত ইসরায়েলের উগ্রপন্থী একটি সংগঠনের ৩০ জনের মতো সদস্য তিন ফিলিস্তিনিকে মারধর করছে। ২২ জুন জেরুজালেমের উপকণ্ঠে একটি মিছিল করার সময় এই ঘটনা ঘটে।
মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত হামলার শিকার হওয়া ওই তিন ফিলিস্তিনি দৌড়ে ইসরায়েলের পুলিশের কাছে যায়। পুলিশ এ সময় ইসরায়েলিদের ফিলিস্তিনিদের কাছে যেতে বাধা দিচ্ছিল। ইহুদি তরুণদের পুলিশ সরে যেতে বলছিল। কিন্তু তারা যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ফিলিস্তিনিদের মারধর অব্যাহত রাখে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হারেৎজ জানিয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তারা হামলা ঠেকানোর কোনও চেষ্টা না করে ফিলিস্তিনিদের রেখে চলে যান।
পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা মাজদি আবু তায়া বলেন, পুলিশ আমাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। কিন্তু তারা আমাদের কোনও সহযোগিতাই করেননি। পুলিশের সামনেই আমাদের মারধর করা হচ্ছিল। ফলে আমরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হই।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ হামলা ঠেকানোর ন্যূনতম চেষ্টা করেনি। এমনকি আরও পুলিশ ঘটনাস্থলে নিয়ে আসার আহ্বানেও সাড়া দেয়নি।
হারেৎজ জানায়, ফিলিস্তিনিরা ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালানোর সময় ইহুদি যুবকেরা তাদের পিছু নেয়। আবু তায়াকে এ সময় মারধর করা হয়। অপর দুই ফিলিস্তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনে লুকিয়ে পড়েন।
ইসরায়েলের পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত করা হবে। ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী এক স্কুলছাত্র একটি অভিযোগ করার পর পুলিশ তদন্তের কথা জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফিলিস্তিনিদের গণপিটুনির শিকার হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। উগ্রপন্থী ইহুদিদের এই গ্রুপটি পরিকল্পনা করে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে উস্কানি দেয় ও হামলা করে। পরে দাবি করে তারা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য এটা করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।
/এএ/








