শিয়াপন্থী ও ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহকে মোকাবিলা করতে সৌদি আরবের প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ার কারণেই রিয়াদে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে আটক করা হয়েছে। হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরান ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্বে লেবাননের হেজবুল্লাহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব চেষ্টা করছে লেবাননে হেজবুল্লাহকে দুর্বল করতে। হেজবুল্লাহ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ও বর্তমান জোট সরকারের অংশ।
হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, যখন হারিরির বিমান রিয়াদে অবতরণ করে তখন তিনি বুঝতে পারেন কোথাও ঝামেলা হয়েছে। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য রাজপরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
সূত্র জানায়, ২ নভেম্বর রাতে হারিরিকে সৌদি আরবে তলব করেন বাদশা সালমান। রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে হারিরি তার মিডিয়া টিমকে জানিয়েছিলেন, সোমবার (৫ নভেম্বর) তিনি মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কৃষ্ণ সাগরের কাছে শারম এল-শেখ রিসোর্টে তাদের সঙ্গে দেখা হবে। এরপর হারিরি রিয়াদে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। শনিবার (৪ নভেম্বর) সকালে সৌদি আরবের প্রটোকল কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি ফোন পান। তাকে বলা হয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) তাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে হারিরি চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হারিরি নিয়মিত সৌদি আরব সফর করতেন। কয়েক দিন এরকমই এক সফরে সৌদি যুবরাজ এমবিএস উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও উপসাগরীয় বিষয়ক মন্ত্রী থামের আল-সাবানের সঙ্গে হারিরির বৈঠক আয়োজন করেন। এই বৈঠকে হেজবুল্লাহকে মোকাবিলায় হারিরির প্রস্তাব ও পরামর্শ শুনেন তারা। হারিরি তাদের বলেন, লেবাননের স্থিতিশীলতার স্বার্থে হেজবুল্লাহ’র সঙ্গে জোট বাধা দরকার।
হারিরি সূত্র মতে, বৈঠকের পর হারিরি মনে করেছিলেন তিনি সৌদি আরবকে হেজবুল্লাহ বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ছিল বিপরীত। হারিরির অবস্থান মেনে নিতে পারেনি সৌদি আরব। হেজবুল্লাহকে নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগকে খাটো করে দেখেছিলেন তিনি। আর এতে করে সৌদি আরব হারিরির উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে।
ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, পদত্যাগের পর হারিরি সৌদি বাদশা সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। একই সময়ে সৌদি আরব হারিরির দল ফিউচার মুভমেন্টের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে। হারিরির ভাই বাহাকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত হারিরির দল তাকেই সমর্থন করছে। বাহাও দলের নেতৃত্ব নিতে রাজি হননি।








