ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-ইভেস লা দ্রিয়াঁ সৌদি আরব সফরকালে বৃহস্পতিবার লেবাননের পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর এ খবর জানিয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী বলেন, ‘জাঁ-ইভেস লা দ্রিয়াঁ বুধবার সৌদি আরব পৌঁছে দেশটির রাজধানী রিয়াদে প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার লেবাননের পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।’ এ সাক্ষাতের সময় পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই সহকারী।
৪ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে এক ভাষণে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ হারিরি। ভাষণে তিনি পদত্যাগের জন্য প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য ইরান ও লেবাননে ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহকে দায়ী করেন। পদত্যাগের পর থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। লেবানন কর্তৃপক্ষ ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, হারিরি দেশে ফিরে কারণ ব্যাখ্যা না করা পর্যন্ত পদত্যাগ গ্রহণ করা হবে না।
বুধবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরব সাদ হারিরিকে ‘আটক’ করে রেখেছে। টুইটারে এক বার্তায় মিশেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ১২ দিন ধরে দেশে ফিরতে না পারা কিছুতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। তাই আমরা তাকে আটক এবং বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে বিবেচনা করছি, যা জেনেভা কনভেনশনের পরিপন্থী।’
সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সাদ হারিরি রবিবার তার দলের টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তার চলাফেলার স্বাধীনতা রয়েছে এবং তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন।
বুধবার সাদ হারিরি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, আগামী দু’একদিনের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন।
এদিকে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবরান বাসিল বলেছেন, তার দেশের পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি দেশে ফিরে গেলেই প্রমাণ হবে তিনি স্বাধীন। মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্যারিসে এক বৈঠকে বাসিল একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি চলমান সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে এবং সাদ হারিরি দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার পর তিনি যা করতে চান তাই করবেন।’
লেবাননের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গেও কথা বলেন বাসিল। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু লেবাননের জনগণের জন্য নয় বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য শাস্তিস্বরূপ হয়ে দেখা দেবে। কারণ, লেবাননে যেকোনও ধরনের অস্থিতিশীলতা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।








