জাতিসংঘের একটি জরুরি প্রয়োজনীয় পোলিও ভ্যাকসিনবাহী বিমান ইয়েমেনের বিদ্রোহী অধিকৃত রাজধানীতে অবতরণ করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ শিথিল হওয়ার পর তিন সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম কোনও ত্রাণবাহী বিমান সেখানে অবতরণ করলো। শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
অবরোধ শিথিল না করা হলে কয়েক হাজার বেসামরিক লোক মারা যেতে পারে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দিয়েছিল।
প্রথম বিমানটির পরে আরও তিনটি বিমান শহরের বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এর দুটিতে জাতিসংঘের ত্রাণকর্মী ও একটিতে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রসের কর্মরা রয়েছেন।
তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনও ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের করিডোরগুলো খুলে দেয়নি সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সৌদি আরব এখনও তা পূরণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।
পশ্চিমা সরকারগুলোর তীব্র চাপের মুখে বুধবার ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দর খুলে দিতে রাজি হয় সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দরটি খোলার কথা বললেও আট ঘণ্টার পর তা খোলা হয়নি। মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য কোনও অনুমতিও দেওয়া হয়নি। শুক্রবার পর্যন্ত খাবার ও ওষুধের দুটি চালান কয়েকদিন ধরে হোদেইদা বন্দরে অপেক্ষা করছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইয়েমেনে সব বাণিজ্যিক ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ওপর অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব। তবে গত বুধবার সৌদি আরব ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ ও সৌদি কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুমতি দেবে। কিন্তু বাণিজ্যিক সহায়তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। সৌদি আরবের অভিযোগ, কার্গো বিমানের আড়ালে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সহায়তায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে বোমা হামলা চালাচ্ছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এতে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: বিবিসি।








