মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত শুরু করতে পারে। কারণ এর মধ্য দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভেঙে পড়তে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়া, থমকে যেতে পারে বহুল আলোচিত 'দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান' নীতি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এমন আভাস পাওয়া গেছে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব নেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। শহরটি মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের মানুষদের জন্য পবিত্র স্থান। শহরটিতে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শহরটিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে মেনে নেয়নি। জেরুজালেমকে ভবিষ্যত রাজধানী হিসেবে মনে করে ফিলিস্তিনও।
ইসরায়েলি টেলিভিশনের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জেরুজালেম ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে তা শেষ করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিন। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল এ মন্তব্য করেছে।
খবরে বলা হয়, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সৎ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে গণ্য করবে না ফিলিস্তিন। আর এ পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটাবে।
শনিবার রাতে ইসরায়েলি টেলিভিশন জানায়, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঘনিষ্ঠ মাজেদ ফারাজ ও সায়েব এরাকাতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি কুশনারকে বলেছে, “এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ ‘সমঝোতার ইতি ঘটাবে’।”
চ্যানেল টেনের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল আরও জানায়, হোয়াইট হাউসেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কুশনারের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। রবিবার মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা কুশনারের।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন। কিংবা ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময়ও এ ঘোষণা আসতে পারে।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি দুটি রাষ্ট্র গঠনে জাতিসংঘের প্রস্তাবের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাইক পেন্স ভাষণ দেবেন। এ সময় তিনি মার্কিন দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের অর্থ হবে এটাকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়, জেরুজালেমের ওপর যে কোনও ধরনের আঘাতকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’র শামিল হিসেবে গণ্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন পিএলও। আফ্রিকা ও আরবের ২২ দেশের সংগঠন আরব লীগের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের ইসরায়েল নীতির কারণে চরমপন্থা আর সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় পবিত্রস্থান জেরুজালেমকে ইসরায়েলের বলে স্বীকৃতি 'ন্যায়সঙ্গত নয়' বলেও মন্তব্য করেছে এই জোট।








