যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে জর্ডান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদম্যাধম পেট্রা নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে ফোন করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও বৈধ মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উচিত।’ তিনি সতর্কতা জানিয়ে বলেন, ‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এটা শুধু জর্ডান বা ফিলিস্তিনের নাগরিকদের নয়, পুরো আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিষয়।’
আয়মান সাফাদি আরও বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের ব্যাপারে আলোচনার জন্য আরব লীগ ও ওআইসি’র জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেবেন। তবে এখনও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি তিনি। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলেই জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি পাবে। ট্রাম্পের পদক্ষেপ রুখতেই আরব লীগ আর ওআইসিকে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র জানান, এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। মাহমুদ আব্বাস মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসি, কাতারের আমির আল থানি ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
জর্ডানের রাজা আব্দুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি শান্তি আলোচনা ব্যহত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাবে।








