ইসরায়েলের সঙ্গে ‘শান্তি স্থাপনে’ সৌদি আরবকে মানতে হবে ১০ শর্ত

বিদেশ ডেস্ক
২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:২৭আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:২৯

 

ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি স্থাপনে সৌদি আরবকে দশটি শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি শিক্ষাবিদ ও গবেষক মোর্দেশাই কেদার। আরব সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করা এই অধ্যাপক বলেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় তবে ইসরায়েলকেও এমনটা চাইতে হবে। এটাই মূল বিষয়। এই শর্ত না মানলে শান্তি আসবে না।’ ইসরায়েলের বিগিন সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইসরায়েলি শিক্ষাবিদ ও গবেষক মোর্দেশাই কেদার

কেদার বলেন, ইসরায়েলকে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মানেনি সৌদি আরব । গত সাত বছরে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর দিকে আরবের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না, যার প্রভাব পড়েছে ইয়েমেন ও সিরিয়ায়।

কেদার মনে করেন, শুরু থেকেই আল সাউদ পরিবার নিজেদের কথা চিন্তা করে আসছে। সৌদি স্বার্থে প্রত্যক্ষ আঘাত না আসলে ইসরায়েলের পাশে থাকার সম্ভাবনা কম তাদের। তাই সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা করা উচিত হবে না ইসরায়েলের।

তিনি বলেন, প্রথমত ইসরায়েলকে বুঝতে হবে যে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় না। সেটা চাইলে ১৯৭৯ সালে তারা আনোয়ার সাদাতের সঙ্গে যোগ দিতে পারত। কিংবা ১৯৯৪ সালে জর্ডানের বাদশা হুসেনের সঙ্গে। কিন্তু তারা শুধু ইরানকে মোকাবিলার জন্য ইসরায়েলকে ব্যবহার করতে চায়।

দ্বিতীয়ত ইসরায়েলকে বুঝতে হবে যে, তাদের কোথাও যেতে হবে না। গত ৭০ বছর ধরে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আরও সাত হাজার বছর ইসরায়েল এমন সদস্য থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে শান্তিচুক্তির প্রয়োজন নেই ইসরায়েলের। কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।

তৃতীয়ত এই শান্তি চুক্তিকে অন্য কিছুর সঙ্গে যুক্ত না করার কথা বলেন কেদার। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যু এই চুক্তিতে আনা উচিত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। কেদার বলেন, ১৯৭৪ সালে ক্যাম্প ডেভিডে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি স্বশাসন অনুমোদন করে ভুল করেছিলেন। সেজন্য এখন এটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে’ রূপ নিচ্ছে।

চতুথ শর্ত হিসেবে কেদার বলেন, আপনারা যদি সত্যিই ফিলিস্তিনকে সাহায্য করতে চান তবে সৌদি আরবে তাদের জন্য গ্রাম ও শহর তৈরি করুন। ইসরায়েল নতুন শহর গড়ে তুলতে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে।

মক্কা ও মদিনায় আল সাউদ পরিবারের কর্তৃত্বে ইসরায়েল স্বীকৃতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন কেদার। তিনি বলেন, আল সাউদের মূল হিজাজে নয় বরং নাজে। এর বিপরীতে জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়া উচিত সৌদিদের।

কেদার বলেন, ইসরায়েল কোনোভাবে সৌদি আরব নিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম উষ্কানিমূলক সংবাদ প্রশ্রয় দেবে না। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এমনটা আশা করেন তারা।

ষষ্ঠ শর্ত হিসেবে কেদার বলেন, সৌদি আরবকে তাদরে দেশে ইসরায়েলি দূতাবাস যেখানে খুশি খুলতে দেবে তারা। একইভাবে ইসরায়েলি ইচ্ছামতো সৌদি দূতাবাস জেরুজালেমে চায় তারা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভোটের ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও সৌদি আরব কখনও পরষ্পরবিরোধী অবস্থান নেবে না। চাইলে ভোটদান থেকে বিরত থাকা যেতে পারে।

এছাড়া সৌদি আরব ও ইসরায়েলের শান্তিচুক্তিতে ইউরোপীয় ও আমেরিকানদের দূরে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক শর্ত মেনে সৌদি আরব চাইলে ইসরায়েল তাদের পরম মিত্রকে ত্যাগ করতেও প্রস্তুত থাকবে বলে জানান কেদার।

শেষ শর্ত হিসেবে কেতার বলেন, ইসরায়েল শুধু শান্তিচুক্তির লিখিত নথিতে তৈরি নয়। কাদের নিজস্ব, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অধিকার রয়েছে।

কেদার বলেন, সৌদি আরবে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের সঙ্গেই ইসরায়েলের পতাকাও তুলে ধরতে হবে। ইসরায়েল কোনও টুর্নামেন্ট জিতলে অবশ্যই তাদের জাতীয় সংগীত বাজাতে হবে। ইসরায়েলি বই ও পণ্যও আয়োজনে প্রদর্শন করতে হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামনে এনে দুই পক্ষকে অবশ্যই পরষ্পরকে সহায়তা করতে হবে উল্লেখ করে কেদার বলেন, অন্য কোনও দেশ যেন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। তাদের ভূখণ্ডে যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে। আর সরাসরি হুমকি না থাকলে ইসরায়েলও কারও ওপর হামলা চালাবে না বলে জানান তিনি। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

 

/এমএইচ/এএ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম