সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত আফরিনে তুরস্কের চলমান সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তিনশতাধিক তুর্কি নাগরিককে আটক করেছে তুরস্ক। সোমবার তুর্কি সরকারে বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দশদিন ধরে চলা এই অভিযানের শুরুতেই তুরস্ক সতর্ক করে দিয়েছিলো যে, এর বিরুদ্ধে সমালোচনা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না।
সোমবার এক বিবৃতিতে তুর্কি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলায় জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী প্রচারণা’ চালানোয় মোট ৩১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা রয়েছেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এই অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া চিকিৎসকদের সমালোচনা করার একদিন পরই এই আটকের ঘটনা ঘটলো।
তুর্কি সামরিক অভিযানের বিষয়টি তাদের সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একে সমর্থন জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টিই শুধু একটু বিরোধিতা করছে। তবে সেটাও খুব জোরালো নয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তুরস্কের ১৭০ জন শিল্পী দেশটির নীতি নির্ধারকদের কাছে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে এই অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। গত সপ্তাহে তুর্কি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (টিটিবি) এই অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলে, ‘যুদ্ধকে না, দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনুন।’
জবাবে এরদোয়ান বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, তারাই একদমই বুদ্ধিমান না। বরং সাম্রাজ্যবাদের চাকর। এই যুদ্ধকে না বলা শুধু তাদের আত্মার সঙ্গে বেঈমানি ছাড়া আর কিছু না।’
তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজদ্যাগ এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও স্থপতিরা এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা নিজেদের তুর্কি বলে পরিচয় দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন।’
২০ জানুয়ারি সিরিয়ার আফরিনে অভিযান শুরুর মধ্য দিয়ে চলমান সিরীয় সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করে তুরস্ক। কুর্দিরা আইএসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহযোগিতা করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কুর্দিদের নিষ্ক্রিয় করতে তুরস্কের সেনাবাহিনী প্রয়োজনে ইরাকে গিয়েও যুদ্ধ করবে।
এ অভিযানে তুর্কি বাহিনীর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের উৎখাত করা। তাদের তুরস্কে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দি বিদ্রোহী পিকেকে’র মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক। পিকেকে কয়েক দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। তুরস্ক তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
২০১৬ সালে ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে এরদোয়ানের সরকার। ছাঁটাই করা হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে।








