সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বছর জুন মাসে কূটনৈতিক সংকটের শুরুতে কাতার দখল করতে চেয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়াহ। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, দোহার উপসাগরীয় প্রতিবেশীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে সবধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের এই দখলের উদ্দেশ্য কাতার বানচাল করে দিয়েছে। আতিয়াহ বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিল।’
এই হুমকি এখনও বর্তমান কিনা জানতে চাইলে আতিয়াহ বলেন, ‘আমরা তাদের এই উদ্দেশ্য বানচাল করে দিয়েছি। কিন্তু সংকটের শুরুতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল।’
কাতারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা উপজাতিদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা সবগুলো মসজিদকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়েছে। এরপর তারা নিজেদের অনুগত কয়েকজনকে সামনে নিয়ে এসে আমাদের নেতাদের স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা করে।’
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন আতিয়াহ। তিনি কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধকে সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘বেহিসেবি ফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০১৭ সালের জুন মাসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাইরাইন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে স্থল, জল ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদকে সমর্থনের অভিযোগে এই অবরোধ আরোপ করে চারটি দেশ। কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কাতারি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র কাতারই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। তিনি জানান, উন্মুক্ত সংলাপে বসতে হলে চলমান সংকটের অবসান হতে হবে।
সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বি ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক কেমন জানতে চাইলে আতিয়াহ বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি।’ তিনি দাবি করেন, ‘সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে স্থলাভিষিক্ত করে নতুন নেতাকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল।’ সূত্র: আল জাজিরা।








