যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ইহুদি সংগঠনগুলোর প্রেসিডেন্টদের সম্মেলনে সৌদি যুবরাজ ও আরব আমিরাতকে সমর্থন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সৌদি আরবকেও পারমানবিক বোমার মালিক হতে দিতে চান কোনও কোনও ইহুদি নেতা। অংশগ্রহণকারি ইসরায়েলি নেতা ইরানকে ‘সাধারণ শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর ফিলিস্তিন নিয়ে একজন ইহুদি নেতার বক্তব্য, তাদেরকে ইসরায়েলের ভেতরে থাকা সব দাবি ছেড়ে দিতে হবে। ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়া ইহুদি নেতাদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
সৌদি আরবের যুবরাজ সালমান ও আরব আমিরাতকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন গ্রিনবার্গ। সোমবার ওয়াশিংটনে বার্ষিক সম্মেলনে রাখা বক্তব্যে গ্রিনবার্গ বলেছেন, তিনি সৌদি আরব ও আরব আমিরাত উভয় দেশেই সফর করেছেন। দেশগুলোর নেতাদের সহনশীলতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ইসরায়েলের পক্ষে তদবিরকারি সংস্থা আইপ্যাককে তিনি সৌদি-আমিরাতকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রকৃত পরিবর্তন নিশ্চিত করার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষে সমর্থন জোরদার করতে হবে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখা আরেকজন বক্তা, ইসরায়েলের এডুকেশন অ্যান্ড ডায়াসপোরা মন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, ‘ইসরায়েল শক্তিশালী। তার সকল শত্রুর সামষ্টিক শক্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী ইসরায়েল।’ ইরানকে অক্টোপাসের মাথার সঙ্গে তুলনা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরানকে আক্রমণ করা উচিত। ইসরায়েলের সিকিউরিটি কেবিনেটে থাকা বেনেট চরম ডানপন্থী । তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের উচিত অন্য দেশগুলো যেন পারমাণবিক বোমা পেতে সক্ষম না হয়। এমন কি আমাদের উচিত সৌদি আরবকে পারমাণবিক বোমা বানাতে বাধা দেওয়া।’
ইসরায়েলের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানি আয়ালোন বলেছেন, তার সঙ্গে সৌদি নেতাদের সম্পর্ক ভালো। তিনি মনে করেন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের ইসরায়েলের সঙ্গে অনেক দিক থেকে মিল আছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সবার অবস্থান একই। ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি স্থাপিত হওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নিলে ও ইসরায়েলের অভ্যন্তর থেকে সব ফিলিস্তিনি দাবি তুলে নিলে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সঙ্গে আলোচনা করবে। অর্থাৎ ফিলিস্তিনি শরণার্থী যাদের বাসাবাড়ি ইসরায়েলের ভেতরে রয়েছে এখন, তাদেরকে দাবি ছেড়ে দিতে হবে।
ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা ইসরায়েলের লেবার পার্টির নেতা আভি গাবে তার ভাষণে বলেছেন, ইসরায়েলের উচিত ফিলিস্তিনীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাওয়া। একটি সামরিক বাহিনীবিহীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। স্বাধীন দেশ পেতে ইসরায়েলের অনেক শর্ত ফিলিস্তিনিদের মেনে নিতে হবে।
তার দাবি, বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে ইসরায়েলের হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে না ফিলিস্তিন ন্যাশনাল অথরিটি। ফিলিস্তিনের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের হিসেব অনুযায়ী, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বর্তমানে ৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলে কারাবন্দী রয়েছে। ১৯৬৪ সালে মরক্কো থেকে ইসরায়েলে আসা গ্যাবি মনে করেন ইসরায়েলের হাতে আটক সকল ফিলিস্তিনিই সন্ত্রাসী। ইসরায়েলে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তিনি ফিলিস্তিনিদেরকে ইসরায়েলের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিযুক্ত করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জানান, তার অভিভবাবকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ মরক্কো থেকে ইসরায়েল চলে এসেছিলেন শুধুমাত্র ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে থাকার জন্য। গ্যাবি বলেছেন, ‘আমরা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের অংশই নই, আমরা মধ্যপ্রাচ্যকে নেতৃত্ব দিতে চাই।’








