বাণিজ্য ও বিনিয়োগে পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক গভীরতর হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া বক্তব্যে এই রাষ্ট্রদূত আরও বলেছেন, সৌদি যুবরাজ সালমানের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বেশি দৃঢ় হবে। সোমবার আরবি ভাষায় দেওয়া তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের এসব কথা প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ৪৭ তম স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেছেন, ‘আমারা আশা করি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বেশি দৃঢ় হবে। উভয় দেশেরই উচিত তাদের নাগরিকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে অর্থনৈতিক কর্মসূচীগুলোকে নিবেদিত করা। ’
সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজের প্রশংসায় বলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনার প্রশংসা করি। তার সুবিবেচনাপ্রসূত ও প্রগতিশীল নেতৃত্বে সৌদি আরবের জন্য প্রণীত ভিশন ২০৩০ও প্রশংসার যোগ্য।’
১৫ মার্চ জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেওয়া বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের ঘোষণা দেশে-বিদেশে সব বাংলাদেশির কাছে আনন্দের বার্তা হয়ে এসেছে। গত ৯ বছর ধরে বাংলাদেশের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে জানিয়ে গোলাম মসীহ বলেছেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) নেতৃত্বে বাংলাদেশ বাস্তবধর্মী উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন করে আসছে। যার ফলশ্রুতিতে অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং অনন্য সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।’
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত দুটি সফরের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই দুটি সফর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর একটি ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফর ও অন্যটি ২০১৭ সালের মে মাসে আরব ইসলামি আমেরিকান সম্মেলনে যোগ দিতে রিয়াদ সফর।
২০১৬ সালের সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে বলতে গিয়ে মসীহ জানিয়েছেন, ওই সময় সৌদি যুবরাজ জাতিসংঘের শান্তি মিশনে থাকা বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পরের বছর শেখ হাসিনা জাঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা রুখতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, জঙ্গিবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বরাবর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে আসছে।
সৌদি আরব সম্প্রতি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করেছে জানিয়ে গোলাম মসীহ বলেছেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের এককভাবে বা সৌদি আরবের সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে মৎসচাষ, নির্মাণশিল্প, পর্যটনসহ দেশটির বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।
২০১৬ সালে জেদ্দাহ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত সভার কথা উল্লেখ করে মসীহ জানান, ওই সভায় বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগের সুযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দেরও প্রস্তাব করেছিলেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। কারণ বাংলাদেশে মেধাবী ও তরুণদের আধিক্যপূর্ণ শ্রমশক্তি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পর্যটন, প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মানশিল্প, ওষুধ শিল্পসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।’
বাংলাদেশ রিয়াদে একটি নতুন দূতাবাস ভবন তৈরি করছে এবং এ বছরেই দূতাবাসের কার্যক্রম নতুন ভবনে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।








