ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে থাকা সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। ট্যাংকারটি ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দরের কাছে ছিল। সৌদি জোটের বিবৃতিতে ওই হামলার কথা স্বীকার করে জানানো হয়েছে, আঘাতটি সামান্য। অন্যদিকে হুথিরা জানিয়েছে, বিমান হামলার জবাব দিতে তারা রণতরীর ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল।
সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালিকি বলেছেন, এই হামলা ‘ফ্রিডম অফ নেভিগেশনে’ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে একটি বড় হুমকি। তাছাড়া এমন হামলার কারণে পরিবেশ দূষণ ও অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আল হোদেইদাহ বন্দরটি এখনও বিদ্রোহীদের হামলা করার অনুকূল স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার অভিযোগ, বন্দরটি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র পাচার করা হয় হুথিদের দেওয়ার জন্য।
কর্নেল মালিকি গাল্ফ নিউজকে আরও বলেছেন, বাব এল মান্দেব ও লোহিত সাগরে দিয়ে যাওয়া আসা করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত জাহাজের নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তারা। হোদেইদাহ বন্দরকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার আওতায় ছেড়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মত, এতে করে বন্দরটিকে যুদ্ধের কাজে হুথিরা ব্যহার করতে পারবে না।
সৌদি সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি বলা হয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকারটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় থাকা অবস্থাতে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ‘হুথি-ইরানিদের’ আক্রমণের শিকার হয়। সৌদি জোটের একটি রণতরী তাৎক্ষনিক পাল্টা হামলা চালায়। সৌদি জোটের রণতরীর হামলার কারণে হুথিরা হামলা চালিয়ে যেতে পারেনি। হুথিদের হামলায় ট্যাংকারটিতে খুবই সামান্য আঘাত লেগেছে যা বিশেষ কোনও সমস্যা নয়। হামলার পরেও রণতরীর প্রহরায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকারটি তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বার্তায় জানানো হয়েছে, ‘হোদেইদাহতে বিমান হামলা চালিয়ে বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার প্রেক্ষিতেই নৌবাহিনী জোটের একটি রণতরীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’ এর চেয়ে বেশি আর কিছু জানা যায়নি হুথিদের পক্ষ থেকে। তাদের বার্তা থেকে স্পষ্ট, তারা তাদের হামলার জন্য সৌদির বিমান হামলাকেই কারণ হিসেবে দেখাতে চায়। সোমবার হওয়া সৌদি আরবের ওই বিমান হামলায় হোদেইদাহতে একটি বাড়ি ধ্বংস হয় এবং একই পরিবারের ১২ জন সদস্য নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৭ জনই শিশু।
তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাতে কি ধরণের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার দ্বারা তারা সৌদি আরাবের রিয়াদেও আঘাত হেনেছিল। সৌদি আরবের অভিযোগ, এসব ক্ষেপণাস্ত্র হুথিদের সরবরাহ করে ইরান। সৌদি আরবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দরটি বন্ধও হয়ে গিয়েছিল। ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্দরটি আবার চালু করার বিষয়ে তারা চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, আরব উপত্যকার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেন। সূত্র: রয়টার্স, গাল্ফ নিউজ ও হারেৎজ।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিয় গুতারেস দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইয়েমেনে চলা যুদ্ধে খন পর্যন্ত পারয় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দেল-মালেক-আল-মেখলাফিও আলোচনার টেবিলে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।








