গৃহযুদ্ধ চলতে থাকা সিরিয়ার দৌমাতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার যে অভিযোগ উঠেছে, সে অভিযোগের সত্যতা পায়নি রাশিয়া। অন্যদিকে, সিরিয়ায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া সূত্রগুলো বলেছে, শনিবারের হামলায় কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছে। ওই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দেশ দুটি মন্তব্য করেছে, দরকার হলে তারা যৌথভাবে কঠিন ব্যবস্থা নেবে।
শনিবার ত্রাণকর্মীদের ধারণ করা এক ভিডিওচিত্রে অনেক মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে যাদের মুখে ফ্যানা ছিল। ওই ভিডিওচিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেলে, রাশিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণহীনতা নিয়ে বক্তব্য দিলো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ভাষ্য, রুশ বিশেষজ্ঞ ও ত্রাণকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে তারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে মানুষ হত্যা করার কোনও প্রমাণ পায়নি।
সিরিয়া আমেরিকান মেডিকেল সোসাইটি বলেছে, দৌমাতে থাকা তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ৫ শতাধিক রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাসায়নিক পদার্থের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির মতো তাদের মধ্যেও শ্বাসপ্রশ্বাসের কষ্ট, নীলচে হয়ে যাওয়া ত্বক, মুখে ফ্যানা ওঠা, চোখের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। তাছাড়া তাদের দেহ থেকে ক্লোরিনের মতো গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল।
সূত্রগুলোর মতে, কমপক্ষে ৪২ জন এবং সর্বোচ্চ ৬০ জনের মতো রাসায়নিক হামলায় মারা গিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এ সংখ্যা বাড়তে পারে। কারণ ত্রাণকর্মীরা বাড়ির ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠে যাওয়া শুরু করেছেন। সেখানে শত শত পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।
রাশিয়া প্রমাণ না পাওয়ার কথা বললেও, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে সহজে ছেড়ে দিতে চাইছে না । গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সিরিয়াতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্র: বিবিসি ও গার্ডিয়ান।








