সিরিয়ায় হামলাকারীদের পরাজয় নিশ্চিত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

বিদেশ ডেস্ক
১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:১৮আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৪২

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সিরিয়ায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো সিরিয়া ও গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নিশ্চিত। ইরান অতীতের মতো এখনও সিরিয়ার পাশে রয়েছে বলে তিনি জানান। শনিবার রাজধানী তেহরানে দেশের পদস্থ কর্মকর্তা ও মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হচ্ছেন অপরাধী। মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা কোনও কোনও সরকার ঔপনিবেশিক ও আন্তর্জাতিক একনায়কতান্ত্রিক নীতিমালার আলোকে কাজ করছে। কিন্তু একনায়কেরা বিশ্বের কোথাও সফল হবে না এবং মার্কিন সরকারও এ অঞ্চলে তার লক্ষ্যগুলো অর্জনে সুনিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হবে। 

এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বক্তব্য তুলে ধরেন খামেনি। ওই বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সাত ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেও কোনও কিছুই পায়নি। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে খামেনি বলেন, যত অর্থই মার্কিন সরকার মধ্যপ্রাচ্যে ব্যয় করুক না কেন, ভবিষ্যতেও তারা সেখানে কিছুই পাবে না।

খামেনি আরও বলেন, মার্কিন সরকারের লক্ষ্য কেবল সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান নয়, আসলে তারা মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করছে। তাই মুসলিম সরকারগুলোর মার্কিন ও আগ্রাসী কোনো কোনো পশ্চিমা সরকারের লক্ষ্যগুলোর সহযোগী হওয়া উচিত হবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, সিরিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের উপস্থিতির কারণ হলো জুলুমের মোকাবিলায় গড়ে-ওঠা প্রতিরোধ সংগ্রামকে সহায়তা দেওয়া। আর এসব সহায়তা পেয়ে সিরীয় সেনারা সাহসিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের পরাজয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ওইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমাদের ও সৌদি সরকারের মতো তাদের অনুচর সরকারগুলোর হাতে।   

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বিশ্বের যেকোনও অঞ্চলেই কোনও মজলুম যদি সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়, ইরান সেখানে হাজির হবে এবং মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি ইসলামি ইরানের সমর্থনের দর্শনও হচ্ছে এটাই।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তুলে শুক্রবার দিবাগত রাতে সিরিয়ার তিনটি স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। রাজধানী দামেস্ক ও হোমস শহরের ওই তিনটি স্থাপনায় আসাদ সরকার রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন করতো বলে অভিযোগ করে আসছে এসব দেশ। এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে এরই মধ্যে শতাধিক মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। দামাস্কাসের একটি রাসায়নিক গবেষণাগার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে সিরিয়া। রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার মিত্র রাশিয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চালানো এই হামলার জবাব দেওয়া হবে। সূত্র: পার্স টুডে।

 

 

/এএ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম