মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ছয় দেশের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণায় চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, চুক্তিটি ভেস্তে গেলে তারা পুনরায় শিল্প পর্যায়ে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এখবর জানিয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফ জানান, চুক্তিটি রক্ষায় তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতির দ্বারস্থ হবেন। একই সঙ্গে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর জন্য প্রস্তুতি নেবে।
মঙ্গলবার ট্রাম্পের ঘোষণার পর কয়েক হাজার ইরানি দেশটির রাজপথে নেমে আসেন। তারা বিক্ষোভ করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেন। শুক্রবার জুমার নামাজের বড় ধরনের বিক্ষোভ হয় তেহরানে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ ট্রাম্পকে অজ্ঞ ও মুর্খ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নীতির কারণেই মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীলতায় পড়ছে।
ইরানের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পার তেহরান এখন এ সমঝোতায় বর্ণিত ধারা অনুসারে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে যাবে। সেখানে ইরানের স্বার্থ রক্ষিত না হলে প্রয়োজনে তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার পূর্বসূরি ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জয়েন্ট কমপ্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চুক্তি কার্যকর রাখতে প্রতি প্রতি তিন মাস পরপর দেশটির প্রেসিডেন্টের সম্মতি দরকার। ১২ মে পরবর্তী তিন মাসের জন্য এই চুক্তিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর না করায় যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সমঝোতা ভেস্তে গেছে।







