দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবি সালেহ গ্রামে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছে। বুধবার পাথর ছুড়ে মারার অভিযোগে এক ইসরায়েলি সেনা তাকে গুলি করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা মান। তবে স্থানীয়দের দাবি, এজাদিন তামিমি নামের ওই যুবককে ইসরায়েলি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবেই হত্যা করেছে। কয়েকদিন ধরেই পাথর ছুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার দায়ে এজাদিনকে গ্রেফতার করতে চাইছিলো ইসরায়েলি সেনারা।
ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, ইসরায়েলি সেনা এজাদিনকে মাত্র ৪৫ মিটার দূর থেকে গুলি করে। ২১ বছরের এই যুবকের ঘাড়ে তিনটি গুলি লেগেছে।
স্থানীয়রা আল জাজিরাকে জানান, গুলিতে আহত হওয়ার পর শশ্রুষার ক্ষেত্রে চিকিৎসাকর্মীদের বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
ইউটিউবি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামবাসীরা মাটিতে পড়ে থাকা আহত যুবককে ঘিরে আছে। সেখানে উপস্থিত থাকা ইসরায়েলি সেনার কাছে চিকিৎসার অনুমতি চাইছেন একজন চিকিৎসাকর্মী।
ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নাবি সালেহ গ্রামের তামিমি পরিবারের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখায় তামিমির পরিবারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। এই পরিবারেরই মেয়ে আহেদ তামিমি ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আহেদের বাবা বাসেম তামিমিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বেশ কয়েকবার আটক করেছে। ২০১২ সালে তাকে বন্দি করার পর মানবাধিকার সংগঠন অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনাকে ‘বিবেকের বন্দিত্ব’ বলে বর্ণনা করেছিল।
দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ ক্ষেত্র হিসেবে নাবি সালেহ গ্রামটিতে ইসরায়েলি সেনাদের চাপ রয়েছে। নিয়মিত সেখানে টহল চালায় তারা। আহেদ তামিমি ও তার মা নারিমনকে গ্রেফতারের পর গ্রামটি আলোচনায় আসে। তাদের আটকের পর তামিমির চাচাতো বোন নুরকেও আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ইসরায়েলের হাতে আটক রয়েছেন তামিমির মা নরিমন ও চাচি। পরে এক রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তার আরও এক চাচাতো ভাইকে। এক সপ্তাহ আগে দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই মুসাব আল তামিমিকে নবি সালেহর পাশের গ্রাম ডেইর নিথামে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল জাজিরা।








